হাসির উৎস খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা

এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের তারিখ লিখতে ‘দুই’ সংখ্যাটি বেশ মজা করে ভ্রান্তি বিলাসে ফেলেছিল। মজার হাসি পেয়েছে অনেকের। আরও মজার বিষয় বিশে^র অনেক বিজ্ঞানী হাসির উৎস খুঁজতে গবেষণা শুরু করে দিয়েছেন। জাতিসংঘ বছরের একটি ‘দিনকে হাসি’ দিবস ঘোষণা করেছে (জাতিসংঘের যে বছরে কত দিবস হিসাব করে নেবেন। ইতোমধ্যে সাড়ে চারশ’ ছাড়িয়েছে)। একদল বিজ্ঞানী বলছেন পৃথিবীতে মানুষ একমাত্র জীব, যে হাসতে পারে। আরেক দল মনে করে না, তা নয়। বানর ও ইঁদুরকে কাতু কুতু দিলে ওরা হাসে। আগের পক্ষের বিজ্ঞানীদের কথা বানর হলেও তো মানুষেরই

পূর্বপুরুষ! …।

২০২০ সালটি সংখ্যাতত্ত্বে (নিউম্যারিক্যালি) ভিন্নতা এনেছে। ফেব্রুয়ারির যেদিন ২ তারিখ ছিল সেদিন লিখতে হয়েছে ০২.০২.২০২০। এভাবে লিখলেও যেমন উল্টোদিকে ঘুরিয়ে দিলেও তেমন। লিখে দেখুন। এ মাসেই আরেকটি তারিখ ছিল বেশ মজার ২০.০২.২০২০। এটা অবশ্য উল্টালে আগের মতো হবে না। তবে ২০ আর ০২ এর ছড়াছড়ি। বাংলা প্রবাদে সামান্য পার্থক্যে বলা হয়Ñ উনিশ-বিশ। এ বছর

মনে হয় পার্থক্য আর থাকবে না। একেবারে বিশে বিশ। মজার এসব বিষয় যখনই আসে তখনই হাসি পায়। যারা একেবারেই হাসে না তারা সামান্য একটু ঠোঁট বাঁকিয়ে বুঝিয়ে দেন, এই হাসি কোন ক্রায়টেরিয়ায় পড়োÑ মুচকি, না মৃদু! কোনটিই নয় ওই ফেব্রুয়ারির ০২ তারিখের মতো। এই যে বিশের হিসাব এটা আর কখনও আসবে না। এরপর ৩০৩০ সালের ৩ এর তারিখগুলো এ ধরনের হবে ৩ দিয়ে। যেমন ০৩-০৩-৩০৩০। অর্থাৎ ওই বছরের আরেকটি তারিখ হবে তিন হাজার সালের তিন মার্চ। (৩০-০৩-৩০৩০)। ততদিনে…….।

এই ফেব্রুয়ারির দুই তারিখে ইন্টারন্যাশনাল হেরার্ল্ড ট্রিবিউন (আইএচিটি) পত্রিকা নিউম্যারিক্যালি ইন্টারেস্টিং স্টোরি করেছে। ওয়াশিংটনের একটি পত্রিকা মানুষের হাসি নিয়ে একটি রিপোর্ট করেছিল গত বছরের চার অক্টোবর। সেদিন ছিল ‘বিশ^ হাসি দিবস’। বিজ্ঞানীরা মানুষকে ভাল রাখতে হাসি হাসতে পরামর্শ দেন তা যে করেই হোক। কেউ বলেছেন দুই ঘণ্টা ঘুমোলে শরীরে যে সুস্থতা আসে পনেরো মিনিট হাসলে তার চেয়ে বেশি সুস্থতা আসবে। হৃৎস্পন্দন ১০ থেকে ২০ শতাংশ বেড়ে হার্টে রক্ত সঞ্চালনের নালি পরিষ্কার হবে। আর্টারিতে বিশুদ্ধ রক্তবাহী নালি) ব্লকের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যাবে। দশ থেকে ১৫ ক্যালরি খরচ হয়ে শরীর হালকা করে দেবে। বিজ্ঞানীরা হাসতে বলেছেন বটে, তবে একটি কথা বলে কিছুটা ঘাবড়ে দেয়ার। অকারণে হাসলে অন্য লক্ষণ। মেন্টাল ডিসঅর্ডারে সিনডোর … বুকাল বিষয়টা। বুঝে নিন। পাগলকে পাগল বললে তো প্রচ- মাইন্ড করে। কিছু করে বসতেও পারে। এই হাসি বন্ধ করতে অবশ্য ওষুধ দরকার।

পাগলের মতো একটি কথা বলেছেন ব্রিটেনের আয়ারল্যান্ডের ৫০ বছরের টেস ক্রিশ্চিয়ান। ওই নারীর মতে, হাসলে মুখের ত্বক ভাঁজ হয়ে যেতে পারে। এই ভয়ে তিনি নাকি ৩৫ বছর হাসেন না। চিকিৎসকের তো আক্কেলগুরুম… বলে কি মহিলা! অর্থাৎ-ত্বক রক্ষা করতে গিয়ে না হেসে সেই মহিলা এতটাই বুড়িয়ে গেছেন ৫০ বছরকে তিনি একশ’তে টেনে নিয়ে এসেছেন। সুতরাং হাসির বিকল্প নেই। মুম্বাইয়ের বিশ^খ্যাত চিকিৎসক ড. মদন কাতারিয়া হাসির যোগ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা। তার মতে হাসি হলো বিশে^র শক্তিশালী ‘ইতিবাচক’ আবেগ। বারাক ওবামা, বিল ক্লিনটন হাসি দিয়ে বিশ^জয় করেছেন। আর বিষমাখানো ট্রাম্পের মুখ দেখে বিশ^ ভীত হয়ে গেছে। যার মুখে হাসি আছে সে সারা পৃথিবীর শান্তির পথ বদলে দিতে পারে।

আরও খবর
Loading...