৩৩ লাশের রসিদ এখন পর্যন্ত নেয়নি পরিবার, ২৪ রসিদে ফোন নম্বর নেই!

৩৩ লাশের রসিদ এখন পর্যন্ত নেয়নি পরিবার, ২৪ রসিদে ফোন নম্বর নেই! পরিবার ছাড়া কতশত দাফন! রাজধানীর কাফরুলের বাসিন্দা হোসনে আরা কামাল (৬২)। গত ৮ এপ্রিল করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। পরে স্বেচ্ছাসেবকরা তাকে দাফন করেন খিলগাঁও কবরস্থানে। মৃত্যুর পাঁচ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও তার কবরের খোঁজ নিতে আসেনি কেউ।

কথা হয় হোসনে আরার বোনের ছেলে ফারহান আহমেদের সঙ্গে। তিনি  বলেন, ‘আমার খালার কোনো সন্তান নেই। তিনি মারা যাওয়ার কিছু দিন পর খালুও মারা যান। আমি নিজেও অনেকটা অসুস্থ তাই কবরস্থানে যেতে পারিনি।

মৃত্যুতে স্বজনরা একসঙ্গে হলেও মহামারী করোনা পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে। যারা করোনায় কিংবা উপসর্গ নিয়ে মারা যায় সাধারণত তাদের দাফন স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে করানো হয়। এতে স্বজনরা উপস্থিত থাকে না বললেই চলে। প্রথম দিকে শুধু স্বেচ্ছাসেবকরাই থাকতেন।

ফলে অনেকেই জানেন না তাদের পরিবারের সদস্যদের কোথায় দাফন করা হয়েছে। কেউ কেউ দাফনের পর আর আসেননি।

সম্প্রতি খিলগাঁও কবরস্থানে গিয়ে দেখা যায়, কবরস্থানের ঝিলপাড়ের শেষ অংশের কবরগুলো বৃষ্টির পানির কারণে নিশ্চিহ্ন হতে যাচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন কবরস্থানটির কর্র্তৃপক্ষ বলছে, চলতি বছরের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ১৯১ ব্যক্তিকে এখানে দাফন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩ লাশের রসিদ এখন পর্যন্ত নেয়নি তাদের পরিবার।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ৩৩ কবরের মধ্যে ২৪টির রসিদেই নেই ফোন নম্বর। আর যেগুলোতে আছে তারও অধিকাংশ বন্ধ। কর্র্তৃপক্ষ বলছে, করোনার আতঙ্কে মৃতের স্বজনরা অনেকেই দাফনে আসেননি। এখন চাইলে তারা আসতে পারেন। কারণ এখন এখানে করোনা রোগীর লাশ দাফন করা হয় না।

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বাসিন্দা নূর উদ্দিন গত ৪ এপ্রিল মারা যান। তাকে দাফন করা হয় খিলগাঁও কবরস্থানে। তার কবরের রসিদ নেওয়া হয়নি। বোন জামাই রাহাত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনার কারণে আমরা কবর দেখতে যেতে পারিনি। দুদিন আগে শ্যালক গিয়েছিল। আমরা শিগগিরই তার কবর সংস্কার করতে যাব।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা জিসান (১৪) মারা যায় করোনা উপসর্গ নিয়ে। তাকেও দাফন করেন স্বেচ্ছাসেবকরা। রসিদে থাকা ফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে বলা হয়, এটি রং নম্বর। তাদের কেউ করোনায় বা উপসর্গ নিয়ে মারা যায়নি।

সাভারের বাসিন্দা মকবুল হোসেনকে (৭০) খিলগাঁও কবরস্থানে দাফন করা হয় গত ১৭ এপ্রিল। তার রসিদে থাকা ফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে এক ব্যক্তি বলেন, আপনি ভুল নম্বরে কল দিয়েছেন।

খিলগাঁও কবরস্থানের মোহরার নাসির উদ্দিন আহমেদ  বলেন, ‘মার্চ থেকে মে পর্যন্ত এখানে ১৯১টি লাশ দাফন হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টির রসিদ কেউ নেয়নি। দুই চারজন কবর দেখে গেছে। ২৪ জনের পরিবারের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে পারিনি। রসিদে কোনো ফোন নম্বর নেই। তিনি আরও বলেন, আমরা কবরগুলোর দেখভাল করছি। যাতে সেগুলো নষ্ট হয়ে না যায়।

আরেক মোহরার কবির হোসেন বলেন, কবরগুলো যাতে হারিয়ে না যায়, সে জন্য বাঁশের খুঁটি দিয়ে চিহ্নিত করে রাখছি। তবে ঝিলপাড় আর ঘনঘন বৃষ্টি হওয়ায় কবরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সুত্র- দেশ রূপান্তর

আরও খবর
Loading...