৮ বছরে ৮১ নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন

nosrul-hamid-120170223190243বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৯ সালের ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট হতে ১৫ হাজার ৩৫১ মেগাওয়াটে (ক্যাপ্টিভসহ) উন্নীত হয়েছে।

তিনি জানান, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৮১টি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যার স্থাপিত ক্ষমতা ৭ হাজার ৬৩২ মেগাওয়াট। এছাড়া আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে ভারত থেকে ৬শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত নুরুল ইসলাম মিলনের (কুমিল্লা-৮) এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।

জাতীয় সংসদকে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ৬৫টি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র (নির্মাণাধীন ও দরপত্র প্রক্রিয়াধীন) স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অনুমোদিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে (নির্মাণাধীন ও দরপত্র প্রক্রিয়াধীন) ১৬ হাজার ৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।

২০২১ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াট
বেগম সানজিদা খানমের (মহিলা আসন-২৪) এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা আছে সরকারের। এ লক্ষ্যে বর্তমানে মোট ১১ হাজার ৩০২ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ২০১৭ সাল থেকে ২০২১ সালের মধ্যে পর্যাক্রমে চালু হবে। এছাড়া ৪ হাজার ৭২৯ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এসব কেন্দ্র চালু হবে।

বেসরকারি খাত থেকে ৫২ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে
দিদারুল আলমের (চট্টগ্রাম-৪) এক প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ জানান, বর্তমান সরকার বেসরকারিভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানিসমূহকে ১৫ বছরের জন্য কর্পোরেট আয়কর থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। এছাড়া কোম্পানিসমূহকে বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট এবং ইকুপমেন্টে কোনো প্রকার কাস্টমস চার্জ, ভ্যাট ছাড়াই আমদানির অনুমতি, বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট চালুর ১২ বছরের মধ্যে প্রয়োজনীয় স্পেয়ার পার্টসের মোট মূল্যের ১০ শতাংশ কাস্টমস চার্জ, ভ্যাট ইত্যাদি ছাড়াই আমদানির অনুমতি, বৈদেশিক কোম্পানিসমূহ লভ্যাংশসহ ইক্যুইটি ফেরতের সুযোগ ও বৈদেশিক ঋণের সুদের উপর কর মওকুফ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের সুবিধাদির কারণে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৫২ শতাংশ বিদ্যুৎ বেসরকারি খাত থেকে উৎপাদিত হচ্ছে।

আরও খবর
Loading...