ব্রিটেনজুড়ে চীনা সার্ভিলেন্স ক্যামেরা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ চীনা সার্ভিলেন্স ক্যামেরা এবার ব্রিটেনেও বিতর্কের মুখে পড়েছে। চীনা কোম্পানি হিকভিশন কোম্পানির তৈরি সার্ভিলেন্স ক্যামেরা এখনো ব্রিটেনে লন্ডনের অবকাশযাপন কেন্দ্র এবং ওয়েস্ট নরফকের স্কুলের টয়লেটে ব্যবহার করা হয়।

ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনায় এই কোম্পানি ক্যামেরা ব্যবহার করে চীন সরকার। গত বছরই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এ নিয়ে সতর্ক করেন একাধিক এমপি। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে জাতীয় নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত বছর একটি পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রিটেনজুড়ে হিকভিশনের ১২ লাখের বেশি সার্ভিলেন্স ক্যামেরা রয়েছে। একাধিক নগর কাউন্সিলকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিল ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ান। তবে একমাত্র গিলডফোর্ড কাউন্সিল বাদে কেউ এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

গিলডফোর্ড কাউন্সিলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে তারা আর ওই ব্রান্ডের ক্যামেরা ব্যবহার করেন না। তাছাড়া ক্যামেরাগুলো যখন কেনা হয় তখন মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো কর্মকাণ্ডে এই ক্যামেরার ব্যবহার সম্পর্কে তারা সচেতন ছিলেন না।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অভিযোগ, হিকভিশনের তৈরি সার্ভিলেন্স ক্যামেরা ‘বন্দিশিবিরগুলোতে’ উইঘুর ও অন্যান্য মুসলিত সংখ্যালঘুদের ওপর নজরদারির কাজে ব্যবহার করা হয়। এ অভিযোগের পরও কভিড-১৯ মহামারীকালে এ ধরনের ক্যামেরা ব্যবহারের পরিধি আরো বাড়িয়েছে চীন।

যুক্তরাষ্ট্রে চীনা বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই কোম্পানির ক্যামেরা অন্যান্য দেশে চীনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।

নজরদারির সরঞ্জাম বিশ্বের এক নম্বর প্রতিষ্ঠান হিকভিশন। তারা স্বীকার করেছে, তাদের ক্যামেরা চীনের ‘রি-এডুকেশন ক্যাম্পে’ ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। এসব ক্যাম্পেই উইঘুর মুসলিম আটকে রাখা হয়েছে। তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও শিক্ষিত করতেই এ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করে আসছে চীন। তবে ক্যামেরার নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে পশ্চিমাদের সব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে হিকভিশন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আরও খবর
Loading...