হাবের কমিটি ভেঙে প্রশাসক নিয়োগের দাবি

haab-logo20160821183003হজ এজেন্সিস অ্যাসোয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর নির্বাচিত বর্তমান কমিটি ভেঙে প্রশাসক নিয়োগের দাবি জানিয়েছে হজ ওমরা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ।

রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা হাব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হজের টিকিট সিন্ডিকেট, মানবপাচার, আইডি কার্ডে অর্থ আত্মসাত ও ট্রলিব্যাগ দুর্নীতিসহ হজ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম সৃষ্টির জন্য দায়ী করে এ দাবি জানান।

লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্য সচিব ও হাবের সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল­াহ আল নাসের। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আহ্বায়ক ও সাবেক সভাপতি জামাল উদ্দিন আহমেদ, হাবের সিনিয়র হজ এজেন্ট সদস্য মো. নুরুল হক, হাব সদস্য মো. বশির উদ্দিন আহমেদসহ অন্যান্য নেতরা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মানবপাচারে অভিযুক্ত তালিকায় হাবের ১২ নেতা ও সদস্যদের এজেন্সির নাম থাকার পরেও দুর্নীতিবাজরা নিজেদের স্বার্থে হজ ব্যবস্থাপনায় প্রতিবন্ধবতা সৃষ্টি করছে।

আব্দুল­াহ আল নাসের জানান, গতকাল (২০ আগস্ট) পর্যন্ত ৭৭ হাজার হজ ভিসা হয়ে গেছে, ৪৫ হাজার ৯৯৩ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছে গেছেন। বাকি ২৩ হাজার হজযাত্রী ভিসা, এজেন্সি মালিকদের হাতে। এরপর বিমানের ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। এ জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব ও হজ পরিচালককে দায়ী করা হলও দোষী মানবপাচারকারী হাবের নেতারা। এর মূলহোতা হাব সভাপতি ইব্রাহিম বাহার এবং মহাসচিব শেখ মো. আব্দুল­্লাহ।

এই দুই নেতাসহ হাব নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মানবপাচারের অভিযোগে হাব সভাপতির মালিকানাধীন মেগাটপ ট্রাভেলস এবং হাব মহাসচিবের মালিকানাধীন সানজারি ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসসহ ৬৯ এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল ও জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

এই দুই নেতার পদত্যাগ দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, আমরা অবিলম্বে এই দুই নেতার পদত্যাগ দাবি করছি। আর হাবের বর্তমান কমিটি বাতিল করে সরকারের কাছে প্রশাসক নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।

হজ ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু ও দুর্নীতিমুক্ত করার দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কমিটি ভেঙে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে নির্বাচন দিতে ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

আব্দুল্লাহ আল নাসের বলেন, ২০১৬ সালের হজে হজগাইড প্রতি ৫০ টাকার আইডি কার্ড দিয়ে জনপ্রতি তিন হাজার ১০০ টাকা করে এক কোটি ৫ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন হাবের নেতারা। হাজিপ্রতি অতিরিক্ত ২০০ টাকা করে ৯৬ হাজার ২৫২ জনের কাছ থেকে এক কোটি ৯২ লাখ ৫ হাজার ৪০০ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।

আব্দুল্লাহ আল নাসের অভিযোগ করে বলেন, হাব সভাপতি ইব্রাহিম বাহার ও মহাসচিব শেখ মো. আব্দুল্লাহ হজ টিকিট সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই সিন্ডিকেট শেষ পর্যায়ের ফ্লাইটের টিকিটে ২৫ থেকে ৩০ হাজার করে অতিরিক্ত আদায় করছেন। হজ ফ্লাইট বাতিলের এই মূলহোতারাই হজ সিন্ডিকেটের নায়ক। এই সিন্ডিকেট ৭৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া তৈরি করেছে।

গত ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালের মোয়ালে­ম ফির টাকার সঙ্গে গত বছরের ৫ হাজার হাজির জন্য সরকারের দেয়া ঋণের ৩৬ কোটি টাকা সমন্বয়ের নামে খরচ দেখিয়েছে। মন্ত্রণালয় ঋণের টাকা ফেরত চাইলেও তা দিচ্ছে না হাব। এ বছর হজে অনিয়ম অব্যবস্থাপনা সৃষ্টি করে নিজেদের ফয়দা লুটতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব এবং হজ পরিচালকের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে। এমনবি তারা সচিব এবং হজ পরিচালকের অপসারণ দাবি করেছে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য।

তাই সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতি ঠেকাতে অবিলম্বে হাবের বর্তমান কমিটি ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করে নির্বাচন দেয়ার দাবি জানাচ্ছি বলে উল্লেখ করেন আব্দুল­াহ আল নাসের।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.