দুবাইয়ে বিদেশি বিমান চলাচলে বড় নিষেধাজ্ঞা: দিনে মাত্র একটি ফ্লাইট

ভ্রমণপিপাসু এবং ব্যবসায়িক প্রয়োজনে যারা নিয়মিত দুবাই যাতায়াত করেন, তাদের জন্য একটি বড় দুসংবাদ।
দুবাই কর্তৃপক্ষ আগামী ৩১ মে পর্যন্ত তাদের দুটি প্রধান বিমানবন্দর—দুবাই ইন্টারন্যাশনাল (DXB) এবং আল মাকতুম ইন্টারন্যাশনালে (DWC) বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর জন্য কঠোর সীমাবদ্ধতা জারি করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি বিদেশি বিমান সংস্থা দিনে মাত্র একটি রাউন্ড-ট্রিপ (যাওয়া-আসা) ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে।
কেন এই বিধিনিষেধ?
আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আকাশপথের সমস্যার কারণে এই অস্থায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
২১ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দুবাইয়ের ব্যস্ততম পর্যটন মৌসুমে এই নিয়ম কার্যকর থাকবে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ভারত
দুবাই-ভারত রুটটি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত আকাশপথ। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলো বিশাল সংকটে পড়েছে:
  • এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস: এই মৌসুমে তাদের ৭৫০টিরও বেশি ফ্লাইট চালানোর পরিকল্পনা ছিল।
  • ইন্ডিগো: তাদের প্রায় ৪৮১টি ফ্লাইট পরিচালনার কথা ছিল।
  • স্পাইসজেট: তাদের ছিল ৬১টি ফ্লাইট।
    এখন নতুন নিয়মে প্রতিটি এয়ারলাইন্স মাসে মাত্র ৩০-৩১টি ফ্লাইট চালাতে পারবে, যা তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় খুবই নগণ্য।
আমিরাত ও ফ্লাইদুবাই কি এই নিয়মের বাইরে?
মজার বিষয় হলো, দুবাইয়ের নিজস্ব এয়ারলাইন্স যেমন—এমিরেটস (Emirates) এবং ফ্লাইদুবাই (flydubai) এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছে না।
তারা তাদের স্বাভাবিক সূচি অনুযায়ী কয়েকশ ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এই ‘অসম’ নিয়মের কারণে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর সংগঠন (FIA) ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং প্রয়োজনে ভারতে আমিরাতি বিমান চলাচলের ওপরও একই ধরণের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
যাত্রীদের ওপর প্রভাব
আপনি যদি এই সময়ের মধ্যে দুবাই ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি:
১. ফ্লাইটের অভাব: অনেক কম ফ্লাইট থাকায় আপনার পছন্দের সময়ে টিকিট পাওয়া কঠিন হবে।
২. ভাড়া বৃদ্ধি: আসন সংখ্যা কমে যাওয়ায় এবং চাহিদা বেশি থাকায় টিকিটের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে।
৩. ছোট শহর থেকে বিচ্ছিন্নতা: ভারতের ছোট শহরগুলো থেকে দুবাইয়ের সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৪. বিকল্প রুট: অনেক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স এখন দুবাইয়ের পরিবর্তে এশিয়া-ইউরোপের অন্যান্য রুট ব্যবহার করছে।
সার্বিকভাবে, দুবাই ভ্রমণের ক্ষেত্রে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি খরচ এবং ঝক্কি পোহাতে হতে পারে।
তাই ভ্রমণের আগে অবশ্যই আপনার এয়ারলাইন্সের সাথে যোগাযোগ করে বর্তমান অবস্থা জেনে নিন।
আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.