চীনের কাছে ২০০ উড়োজাহাজ বিক্রির ঘোষণা ট্রাম্পের, সংখ্যা বেড়ে হতে পারে ৭৫০

চীনের কাছে ২০০ উড়োজাহাজ বিক্রির ঘোষণা ট্রাম্পের, সংখ্যা বেড়ে হতে পারে ৭৫০

দীর্ঘদিনের বাণিজ্য উত্তেজনার পর অবশেষে চীনের বাজারে বড় অর্ডারের আশা দেখছে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Boeing। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump জানিয়েছেন, চীন প্রাথমিকভাবে বোয়িংয়ের ২০০টি উড়োজাহাজ কিনতে সম্মত হয়েছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা বেড়ে ৭৫০ পর্যন্ত যেতে পারে বলেও জানান তিনি।

শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “চুক্তিতে প্রায় ২০০টি উড়োজাহাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং তারা ভালো কাজ করলে তা ৭৫০ পর্যন্ত যেতে পারে।” তিনি আরও জানান, এসব উড়োজাহাজে GE Aerospace–এর ইঞ্জিন ব্যবহার করা হবে।

তবে কোন ধরনের উড়োজাহাজ কেনা হবে, কখন সরবরাহ দেওয়া হবে কিংবা চুক্তির আর্থিক মূল্য কত—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি চূড়ান্ত হলে তা হবে প্রায় এক দশকের মধ্যে চীনের সঙ্গে বোয়িংয়ের প্রথম বড় বাণিজ্যিক চুক্তি। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যযুদ্ধ এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমান চলাচল বাজারে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়ে বোয়িং। এ সময় চীনা এয়ারলাইনগুলো ইউরোপীয় নির্মাতা Airbus–এর দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে।

এর আগে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping–এর বৈঠকের আগে প্রায় ৫০০ উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছিল। যদি ৫০০টির বেশি উড়োজাহাজের অর্ডার বাস্তবায়িত হয়, তবে সেটি হতে পারে বিমান শিল্পের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চুক্তিগুলোর একটি।

চীনে সম্ভাব্য এই বড় চুক্তিকে ঘিরে ট্রাম্পের সফরে বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেলি অর্টবার্গ এবং জিই অ্যারোস্পেসের প্রধান নির্বাহী ল্যারি কাল্পসহ কয়েকজন শীর্ষ মার্কিন ব্যবসায়ী অংশ নেন। তাদের লক্ষ্য ছিল নতুন ব্যবসায়িক চুক্তি নিশ্চিত করা এবং চলমান বাণিজ্যিক জটিলতা নিরসন করা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্ভাব্য এই চুক্তি শুধু বোয়িংয়ের জন্যই নয়, ট্রাম্প প্রশাসনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হতে পারে। কারণ, ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও কঠোর বাণিজ্য অবস্থান এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারেনি।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN