ঈদেও মিলেনি ন্যূনতম সেবা, ভোগান্তিতে বিমানযাত্রীরা

বিমানবন্দরের ডমেস্টিক ট্রানজিট (টিপি) লাউঞ্জে চরম ভোগান্তিতে পড়েছিলেন দেশি-বিদেশি যাত্রীরা

ঈদুল আজহার দিনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ডমেস্টিক ট্রানজিট (টিপি) লাউঞ্জে চরম ভোগান্তিতে পড়েছিলেন দেশি-বিদেশি যাত্রীরা। একমাত্র ক্যান্টিনটি বন্ধ থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা খাবার ও পানীয় ছাড়াই অপেক্ষা করতে হয়েছিল তাদের। এতে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছিল। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ভিআইপি ও ডমেস্টিক ট্রানজিট লাউঞ্জে থাকা বহু যাত্রী এ অভিযোগ করেছিলেন। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা কানেক্টিং যাত্রীদের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরাও খাবার ও পানির সংকটের কথা জানিয়েছিলেন।

সকালেই মালয়েশিয়া, সৌদি আরব ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা যাত্রীরা দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ভ্রমণ শেষে ডমেস্টিক কানেক্টিং ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু ডমেস্টিক টার্মিনালের ভেতরে ন্যূনতম খাবার কিংবা পানির ব্যবস্থাও না থাকায় তারা চরম বিপাকে পড়েছিলেন। ক্ষুব্ধ যাত্রীদের সঙ্গে দায়িত্বরত কর্মীদের কয়েক দফা তর্ক ও উত্তেজনার ঘটনাও ঘটেছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছিলেন, ডমেস্টিক এয়ারপোর্টের ভেতরের ক্যান্টিনটি সাধারণত ২৪ ঘণ্টাই চালু থাকত। এমনকি আগের ঈদগুলোতেও এটি কখনো বন্ধ থাকেনি। কিন্তু এবার কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই ক্যান্টিন বন্ধ রাখায় যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছিলেন। সৌদি আরব থেকে আসা যাত্রী আবু বকর বলেছিলেন, বাইরে বের হওয়ার সুযোগ ছিল না, ভেতরে খাবার ও পানির ব্যবস্থাও ছিল না। ছোট শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে তারা চরম কষ্টে ছিলেন।

শুধু আন্তর্জাতিক যাত্রীরাই নন, অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীরাও একই সমস্যার মুখে পড়েছিলেন। অনেকেই অভিযোগ করেছিলেন, ঈদের দিন হওয়ায় বিমানবন্দরের বাইরে অধিকাংশ দোকান ও রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকলেও বিমানবন্দরের ভেতরে ন্যূনতম যাত্রীসেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়নি। যশোরগামী এক যাত্রী জানান, বাইরে কোনো রেস্টুরেন্ট খোলা না পেয়ে তিনি বিমানবন্দরে খাবারের আশা করেছিলেন, কিন্তু লাউঞ্জের রেস্টুরেন্টেও তালা ঝুলতে দেখেছিলেন।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেছিলেন, ঈদ বা ছুটির দিনেও বিমানবন্দর একটি ২৪ ঘণ্টার সেবাখাত। সেখানে যাত্রীসেবা বন্ধ থাকার সুযোগ নেই। বিশেষ করে ট্রানজিট যাত্রীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থাও না রাখা বড় ধরনের ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেছিলেন।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ঈদের ছুটিতেও শাহজালাল বিমানবন্দরে বিপুল সংখ্যক আন্তর্জাতিক যাত্রীর চাপ ছিল। তবে ক্যান্টিন বন্ধ থাকার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগিব সামাদ জানিয়েছিলেন, ক্যান্টিন বন্ধ রাখার বিষয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো নির্দেশনা দেয়নি এবং বিষয়টি তার জানা ছিল না।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN