ভারতে সপ্তাহে ১৮০০ ফ্লাইট কমার প্রভাবে বাড়তে পারে বিমান ভাড়া
ভারতে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১৮০০ অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট কমানোর সিদ্ধান্ত
ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানির দামের প্রভাবে ভারতে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১৮০০ অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের প্রধান বিমান সংস্থাগুলি। ইন্ডিগো ও এয়ার ইন্ডিয়ার মতো বড় এয়ারলাইন্স জুন থেকে অগস্ট পর্যন্ত ধাপে ধাপে ফ্লাইট কমানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি বিমান ভাড়াও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এখন পর্যন্ত জ্বালানির ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মূলত সড়ক পরিবহনেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এবার সেই সংকট সরাসরি আঘাত হানছে আকাশপথে। এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (এটিএফ)-এর লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণেই তারা অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট প্রায় ২২ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে বাধ্য হয়েছে। অন্যদিকে, ইন্ডিগো জানিয়েছে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাত্রী চাহিদা তুলনামূলক কমে যাওয়াও তাদের এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে যাচ্ছে দিল্লি ও মুম্বইয়ের মতো ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোতে। দিল্লি থেকে হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু ও কলকাতাগামী ফ্লাইটের সংখ্যা কমানো হবে। পাশাপাশি মুম্বই থেকে আহমেদাবাদ, নাগপুর, পাটনা ও ভোপাল রুটেও ফ্লাইট কমবে। দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন শহর থেকে ফিরতি ফ্লাইটও এই কাটছাঁটের আওতায় পড়বে। যদিও কোনও রুট পুরোপুরি বন্ধ করা হচ্ছে না, তবে ফ্লাইটের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যাত্রীদের বিকল্প কমে যাবে।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ অজয় জাসরার মতে, বর্তমান সংকট শুধু চাহিদা হ্রাসের কারণে নয়, বরং এটি এক ধরনের ভূ-রাজনৈতিক জ্বালানি ও আকাশসীমা সংকট। ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা এবং আকাশপথে বিঘ্নের কারণে জ্বালানির খরচ অনেক বেড়ে গেছে। ফলে বিমান সংস্থাগুলো এখন লাভজনক রুটে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে এবং কম লাভের দ্বিতীয় সারির রুটগুলোতে ফ্লাইট কমাতে শুরু করেছে।
যেসব যাত্রী ইতোমধ্যেই টিকিট বুক করেছেন, তাদের জন্য বিকল্প ফ্লাইটে আসনের ব্যবস্থা, বিনামূল্যে সময় পরিবর্তনের সুযোগ অথবা সম্পূর্ণ অর্থ ফেরতের আশ্বাস দিয়েছে বিমান সংস্থাগুলো। ১ জুন থেকে ৩১ অগস্ট পর্যন্ত বাতিল হওয়া অনেক ফ্লাইট ইতোমধ্যেই বুকিং সিস্টেম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্লাইট কমে যাওয়ায় আসন সংকট তৈরি হবে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভাড়ায়। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন রুটে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বেড়েছে। পাশাপাশি যাত্রীদের ওপর ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ফুয়েল সারচার্জ আরোপ করা হয়েছে। জ্বালানির দাম দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে ভবিষ্যতে বিমান ভাড়া আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
