জিন এয়ারের ২০০ ফ্লাইট বাতিল, নতুন নিয়োগে স্থগিতাদেশ

দক্ষিণ কোরিয়ার স্বল্প খরচের বিমান সংস্থা জিন এয়ার বর্তমানে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি ও পরিচালন চাপে

দক্ষিণ কোরিয়ার স্বল্প খরচের বিমান সংস্থা জিন এয়ার বর্তমানে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি ও পরিচালন চাপের কারণে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি ইতোমধ্যে প্রায় ২০০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করেছে এবং নতুন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট নিয়োগের পরেও তাদের যোগদানের সময়সূচি স্থগিত করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৫০ জন নতুন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের কাজ শুরুর তারিখ ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধ পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও এর মধ্যে কিছু নিয়োগপ্রাপ্ত ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণ শুরু করেছিলেন, বাকিদের হঠাৎ করেই জানানো হয় যে তাদের যোগদান আরও কয়েক মাস পিছিয়ে যাচ্ছে। এই সিদ্ধান্তকে এয়ারলাইনটি “পরিস্থিতিগত ও অনিবার্য পরিচালন সিদ্ধান্ত” হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।

সংস্থাটির এই পদক্ষেপের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর মূল্যবৃদ্ধি। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও বৈশ্বিক সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে বিমান জ্বালানির খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্বল্প খরচের এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য এটি বড় চাপ তৈরি করেছে, কারণ তারা সাধারণত কম ভাড়ায় বেশি যাত্রী পরিবহন করে থাকে এবং হঠাৎ করে টিকিটের দাম বাড়ানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

এই পরিস্থিতিতে জিন এয়ার শুধু কর্মী নিয়োগই স্থগিত করেনি, বরং তাদের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সূচিতেও বড় পরিবর্তন এনেছে। মে মাস পর্যন্ত সংস্থাটি মোট ১৭৬টি রাউন্ড-ট্রিপ ফ্লাইট বাতিল করেছে। এর মধ্যে গুয়াম, ফুকুওকসহ এশিয়ার বিভিন্ন জনপ্রিয় রুট রয়েছে। পাশাপাশি ১৪টিরও বেশি রুটে ফ্লাইট সংখ্যা কমানো হয়েছে, যার ফলে যাত্রীদের বিকল্প কমে গেছে এবং ভ্রমণ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত শুধু একটি কোম্পানির আর্থিক চাপের ফল নয়, বরং পুরো বিমান শিল্পে জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবকে নির্দেশ করে। বর্তমানে অনেক এয়ারলাইন তাদের লাভজনক রুটকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং কম লাভজনক বা স্বল্প চাহিদার রুটগুলো ধীরে ধীরে কমিয়ে দিচ্ছে।

যাত্রীদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। কারণ ফ্লাইট বাতিল বা সময় পরিবর্তনের ফলে সংযোগ ফ্লাইট মিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে ভাড়াও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ভ্রমণ ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, জিন এয়ারের এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক বিমান চলাচল খাতে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এবং এর দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জগুলোর একটি স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN