নারী ক্ষমতায়নে বড় অর্জন, এমিরেটসে প্রথম নারী ক্যাপ্টেন নিয়োগ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমান সংস্থা এমিরেটসের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দুইজন নারী পাইলটকে ক্যাপ্টেন

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমান সংস্থা এমিরেটসের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দুইজন নারী পাইলটকে ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত করা হয়েছে, যা দেশটির বিমান চলাচল খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই অর্জনের মাধ্যমে এমিরেটসের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দুইজন এমিরাতি নারী ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, যারা বর্তমানে বোয়িং ৭৭৭ ফ্লিটে দায়িত্ব পালন করছেন।

এমিরেটস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পাওয়া দুই পাইলট হলেন হানান মোহাম্মদ জাওয়াদ এবং বাখিতা আল মুহাইরি। দীর্ঘ প্রশিক্ষণ, কঠোর পরিশ্রম এবং পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে তারা এই মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছেছেন। তাদের এই সাফল্য এমিরেটসের জাতীয় ক্যাডেট পাইলট প্রোগ্রামের মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির চলমান উদ্যোগের একটি সফল উদাহরণ।

হানান মোহাম্মদ জাওয়াদ ২০০৮ সালে এমিরেটসে ক্যাডেট পাইলট হিসেবে যোগ দেন। ছোটবেলা থেকেই আকাশে উড়ার স্বপ্ন এবং বিমান চালনার প্রতি গভীর আগ্রহ তাকে এই পেশায় আসতে অনুপ্রাণিত করে। দীর্ঘ প্রশিক্ষণ ও ধারাবাহিক উন্নতির মাধ্যমে তিনি ধাপে ধাপে উন্নতি করে অবশেষে ক্যাপ্টেন পদে পৌঁছান।

অন্যদিকে বাখিতা আল মুহাইরি ২০১১ সালে এমিরেটসের ক্যাডেট প্রোগ্রামে যোগ দেন। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের নারী পাইলটদের অগ্রযাত্রা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বিমান চলাচল খাতে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। কঠোর পরিশ্রম, দক্ষতা এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে পেশাগত উন্নতি করে সফলভাবে ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

দুইজনই তাদের ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ এই অর্জনকে “চতুর্থ স্ট্রাইপ” হিসেবে গ্রহণ করেছেন, যা ককপিটে নেতৃত্ব, দক্ষতা এবং দায়িত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। তাদের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নারী ক্ষমতায়ন এবং বৈশ্বিক বিমান চলাচলে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে।

তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারী পাইলটদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন, যেখানে বলা হয়েছে যে নেতৃত্ব সবসময় নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং এমিরেটস নারীদের বিকাশে সুযোগ তৈরি করে যাচ্ছে। তারা আশা প্রকাশ করেন যে আগামীর প্রজন্ম এই অগ্রগতিকে আরও এগিয়ে নেবে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমিরেটসের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের বিমান শিল্পে লিঙ্গ সমতা ও পেশাগত উৎকর্ষতার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করেছে। এই অর্জন আন্তর্জাতিক বিমান খাতে নারীদের ভূমিকা আরও বিস্তৃত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.