দেশের ৪ বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা

বাংলাদেশের আকাশপথ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা, আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশের আকাশপথ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা, আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী জানান, রাজশাহী, কক্সবাজার, যশোর এবং সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে ধাপে ধাপে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করা হবে। এর মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সহজ হবে। একই সঙ্গে রপ্তানি বাণিজ্য, পর্যটন, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ এভিয়েশন হাবে পরিণত করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে এ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান বিমান চলাচল কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। এজন্য বিমানবন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন, যাত্রীসেবা বৃদ্ধি এবং কার্গো ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, জাতীয় এয়ার কানেকটিভিটি গ্রিড গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ যাত্রী ও লজিস্টিকস হাবে উন্নীত করা হবে। এসব বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটগুলোর মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন করা হবে, যা যাত্রী পরিবহন ও পণ্য পরিবহনে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

এদিকে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স–এর বহর সম্প্রসারণেও বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী জানান, মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Boeing–এর সঙ্গে ১৪টি আধুনিক উড়োজাহাজ ক্রয়ের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। এসব উড়োজাহাজ কেনার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। নতুন বিমান যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ এবং যাত্রীসেবার মান উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এর বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বিমানবন্দরের প্রায় ৯৪ হাজার বর্গমিটার এলাকায় আধুনিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হয়েছে, যা যাত্রীসেবাকে আরও উন্নত করবে।

সরকার মনে করছে, বিমানবন্দর উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধি এবং পর্যটন খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন, পর্যটন ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

 

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.