বাংলাদেশে এসেই ভিসা সহজ করার আশ্বাস দিলেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার
বাংলাদেশে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই দুই দেশের মানুষের যাতায়াত ও ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত
বাংলাদেশে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই দুই দেশের মানুষের যাতায়াত ও ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করতে উভয় দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং ভিসা-সংক্রান্ত বিদ্যমান সমস্যাগুলোরও সমাধান সম্ভব।
শুক্রবার দুপুরে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন দীনেশ ত্রিবেদী ও তার সহধর্মিণী মৃনাল ত্রিবেদী। বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত অতিক্রম করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে বহু পুরোনো বন্ধন রয়েছে। শুধু অভিন্ন সীমান্তই নয়, দুই দেশের মানুষের স্বপ্ন, সংস্কৃতি এবং আবেগও অনেক ক্ষেত্রে একসূত্রে গাঁথা। তিনি বলেন, “আমাদের আকাশ এক, বাতাস এক। আমরা মিলেমিশে ভিসার সমস্যার সমাধান করব। ভালোবাসা ও পারস্পরিক আন্তরিকতার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, তার প্রধান অগ্রাধিকার হবে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা। রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যোগাযোগ বৃদ্ধি, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের যাতায়াত সহজ করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
নতুন হাইকমিশনারের ভাষায়, “বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণ একে অপরের খুব কাছের। আমাদের সম্পর্ক শুধু সীমান্তের নয়, মানুষের হৃদয়ের সম্পর্ক। দুই দেশের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
বাংলাদেশে প্রবেশের সময় তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবনকুমার তুলসীদাস, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি চিফ অব প্রটোকল কর্মকর্তা আরিফ মাহমুদ, বেনাপোল পোর্টের পরিচালক শামীম হোসেন, শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
ইমিগ্রেশন ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে ভারত সরকার সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়। বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সক্রিয় রাজনীতিবিদকে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলো। কূটনৈতিক মহলে তার এই নিয়োগকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
