চালুর আগেই ঋণের চাপে শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল

টার্মিনালটি থেকে কোনো আয় শুরু হওয়ার আগেই এর নির্মাণে নেওয়া জাপানি ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ

ঢাকা: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হলেও এখনো শুরু হয়নি বাণিজ্যিক কার্যক্রম। অথচ টার্মিনালটি থেকে কোনো আয় শুরু হওয়ার আগেই এর নির্মাণে নেওয়া জাপানি ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ এসে পড়েছে। চলতি বছরেই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করতে হবে, যা সংস্থাটির বার্ষিক উদ্বৃত্ত আয়ের প্রায় সমপরিমাণ।

তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন ৫ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ঋণ দিয়েছে ১৬ হাজার ১৪১ কোটি টাকা। চুক্তি অনুযায়ী, চলতি জুন মাসে প্রথম কিস্তি এবং আগামী ডিসেম্বরে দ্বিতীয় কিস্তি পরিশোধ করতে হবে। তবে টার্মিনাল চালু না হওয়ায় কোনো রাজস্ব আয় ছাড়াই এই অর্থ পরিশোধের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বেবিচক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টার্মিনাল নির্মাণের পাশাপাশি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা চুক্তি চূড়ান্ত করা হলে বর্তমান পরিস্থিতি এড়ানো যেত। এভিয়েশন বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্রুত বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু না হলে প্রকল্পটি দেশের বিমান চলাচল খাতের সম্ভাবনাময় সম্পদ হওয়ার বদলে আর্থিক বোঝায় পরিণত হতে পারে।

সূত্র জানায়, টার্মিনালের নির্মাণকাজ প্রায় ৯৯ শতাংশ সম্পন্ন হলেও পরিচালনা কাঠামো ও রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বন্দর উন্নয়ন ফি, লাউঞ্জ, কার্গো হ্যান্ডলিং এবং কার পার্কিং থেকে অর্জিত রাজস্বের ৭৩ শতাংশ পাবে জাপানি কনসোর্টিয়াম এবং ২৭ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চললেও এখনো চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে। জাপানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠক ও আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির খসড়া প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে জাপানি পক্ষ আরও দুই মাস সময় চাওয়ায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাদের নতুন শর্ত অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রস্তুতির জন্য আরও ছয় মাস সময় প্রয়োজন হবে।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের সহযোগিতা পাওয়া গেলে আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যেই তৃতীয় টার্মিনাল চালু করা সম্ভব। অন্যদিকে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়মতো কার্যক্রম শুরু না হলে ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বাড়বে এবং প্রকল্পটির অর্থনৈতিক সুফল পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.