হাসিমারা বিমানবন্দরের জমি জরিপ শেষ, অধিগ্রহণ হবে ৩৮ একর জমি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার হাসিমারায় প্রস্তাবিত অসামরিক বিমানবন্দর নির্মাণের লক্ষ্যে জমি জরিপের প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার হাসিমারায় প্রস্তাবিত অসামরিক বিমানবন্দর নির্মাণের লক্ষ্যে জমি জরিপের প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে। মাত্র এক মাসের মধ্যে জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর এই জরিপ সম্পন্ন করেছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরের রানওয়ে, টার্মিনাল ভবন এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণের জন্য মোট ৩৮ একর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ একর জমি নেওয়া হবে কালচিনি ব্লকের সাতালি গ্রাম পঞ্চায়েতের সাতালি মণ্ডলপাড়া মৌজা থেকে এবং বাকি ১১ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে মধু চা বাগান এলাকা থেকে।

সাতালি মণ্ডলপাড়ার যেসব জমি অধিগ্রহণের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখানে কৃষিজমির পাশাপাশি বসতবাড়িও রয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় ২২টি পরিবার স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। প্রস্তাবিত রানওয়ের জন্য নির্ধারিত অংশের মধ্যে চারটি পরিবারের বাড়ি সরাসরি পড়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সরকার যদি পুনর্বাসনের ব্যবস্থা এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করে, তাহলে উন্নয়নের স্বার্থে তারা জমি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত।

স্থানীয়দের দাবি, হাসিমারা বিমানবাহিনী ঘাঁটির খুব কাছাকাছি হওয়ায় এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই যুদ্ধবিমানের তীব্র শব্দদূষণের শিকার। সাতালি মণ্ডলপাড়া থেকে বিমানবাহিনীর ঘাঁটির দূরত্ব মাত্র প্রায় ৫০০ মিটার। প্রতিদিন যুদ্ধবিমানের উড্ডয়ন ও মহড়ার কারণে প্রবল শব্দে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয়। অনেক বাসিন্দার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই শব্দের মধ্যে বসবাস করায় তাদের শ্রবণশক্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা সত্যেন মণ্ডল বলেন, উন্নয়নের স্বার্থে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ অসামরিক বিমানবন্দর গড়ে তোলার লক্ষ্যে তারা জমি ছেড়ে দিতে আপত্তি করবেন না, যদি সরকার পুনর্বাসন ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করে। আরেক বাসিন্দা অসীমকুমার মণ্ডল জানান, গত এক মাস ধরে প্রশাসনের কর্মকর্তারা এলাকায় জমি জরিপ করেছেন এবং তাদের জানিয়েছেন যে এখানে একটি আধুনিক অসামরিক বিমানবন্দর নির্মাণ করা হবে। যুদ্ধবিমানের অবিরাম শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ায় অনেক পরিবারই অন্যত্র স্থানান্তরিত হতে আগ্রহী।

আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা বলেছেন, যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হবে তাদের জন্য পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা প্রকল্পের অংশ হিসেবেই রাখা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, সরকার কাউকে বঞ্চিত করবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রস্তাবিত হাসিমারা অসামরিক বিমানবন্দর চালু হলে উত্তরবঙ্গের বিমান যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যটন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি দার্জিলিং, ডুয়ার্স, ভুটান সীমান্ত ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগ আরও সহজ হবে। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ এবং পরিবেশগত বিষয়গুলো যথাযথভাবে নিশ্চিত করাই হবে প্রশাসনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN