উদ্বোধনের আগেই থার্ড টার্মিনালে পানি লিকেজ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল আলোচিত থার্ড টার্মিনাল চালুর আগেই ভবনের বিভিন্ন স্থানে পানি লিকেজের তথ্য সামনে এসেছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল আলোচিত থার্ড টার্মিনাল চালুর আগেই ভবনের বিভিন্ন স্থানে পানি লিকেজের তথ্য সামনে এসেছে। প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই অত্যাধুনিক টার্মিনালের ছাদ, দরজার গ্যাংওয়ে এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এতে টার্মিনালের নির্মাণমান ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) অভ্যন্তরীণ একটি নথির বরাত দিয়ে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। নথি অনুযায়ী, থার্ড টার্মিনালের বিভিন্ন অংশে একাধিক লিকেজ শনাক্ত করা হয়েছে। গত ১২ জুলাই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকের উপস্থিতিতে এসব ত্রুটি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়।

পরিদর্শনের সময় টার্মিনালের ছাদসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পানি প্রবেশের বিষয়টি চিহ্নিত করা হয়। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় এসব স্থান দিয়ে পানি চুইয়ে পড়ার কারণে ভবনের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো ও বিভিন্ন সরঞ্জামের ওপর দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বেবিচকের অভ্যন্তরীণ নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, লিকেজগুলো দ্রুত মেরামত করা না হলে ভবিষ্যতে টার্মিনাল ভবনের অবকাঠামোগত ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এমনকি দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই এর বড় ধরনের প্রভাব দেখা দিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে ত্রুটিগুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক এইচ এম নুরুদ্দিন ঠিকাদারি ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি দিয়েছেন। বর্তমানে লিকেজ বন্ধ করা এবং সংশ্লিষ্ট ত্রুটিগুলো মেরামতের কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

তবে উদ্বোধনের আগেই বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত একটি আন্তর্জাতিক মানের টার্মিনাল ভবনে পানি লিকেজের ঘটনায় নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিদেশি ঠিকাদারি ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকার পরও কেন এমন ত্রুটি দেখা দিয়েছে, তা নিয়েও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতেও এসব ত্রুটি থাকার বিষয়টি সামনে এসেছিল। এরপরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ফলে ত্রুটিগুলো শনাক্ত হওয়ার পর যথাযথভাবে মেরামত করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে, থার্ড টার্মিনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে উদ্বোধনের আগেই পানি প্রবেশের ঘটনা ভবিষ্যৎ পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত ও স্থায়ীভাবে সমস্যাগুলো সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

পানি লিকেজ ও নির্মাণগত ত্রুটির বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং পরামর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.