বিমান খাতে গতি আনতে বেবিচকে মন্ত্রী

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও কার্যকর করতে বেবিচকের কার্যালয়ে সপ্তাহে একদিন অফিস করার পরিকল্পনা নিয়েছেন বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও কার্যকর করতে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কার্যালয়ে সপ্তাহে একদিন অফিস করার পরিকল্পনা নিয়েছেন বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এর মাধ্যমে বিমান খাতের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বেবিচক সূত্র জানায়, মন্ত্রীর নিয়মিত অফিস করার জন্য সংস্থাটির সদর দপ্তরের ষষ্ঠ তলায় একটি কার্যালয় প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, দাপ্তরিক সুবিধা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক প্রস্তুতির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সপ্তাহের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে একদিন মন্ত্রী বেবিচক কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করবেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর বিমানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, কাজের সুবিধার্থে সপ্তাহে একদিন বেবিচক অথবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্যালয়ে বসে অফিস করার আগ্রহ রয়েছে তার। মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থার কার্যালয়ে সরাসরি উপস্থিত থেকে কাজ করলে বিভিন্ন বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং বাস্তবায়ন পর্যায়ের সমস্যা চিহ্নিত করা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিমান খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে বর্তমানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। বিমানবন্দর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ফ্লাইট পরিচালনা, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালসহ বিভিন্ন বিষয়ে দ্রুত সমন্বয় প্রয়োজন। এসব কাজে মন্ত্রীর নিয়মিত উপস্থিতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ করে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের কার্যক্রম, বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উন্নয়ন পরিকল্পনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সরাসরি তদারকির সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি বেবিচকের প্রশাসনিক কার্যক্রমে কোনো জটিলতা তৈরি হলে তা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেবিচকের এক কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রীর নিয়মিত উপস্থিতি সংস্থাটির নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে গতি আনতে পারে। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়, বেবিচক এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় আরও শক্তিশালী হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মন্ত্রীর এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিমান খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে প্রশাসনিক গতি বাড়তে পারে। মাঠপর্যায়ের সমস্যা সরাসরি জানার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক আলোচনা করে সমাধানের পথ বের করাও সহজ হবে।

তবে সপ্তাহে কোন দিন মন্ত্রী বেবিচক কার্যালয়ে নিয়মিত অফিস করবেন, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। প্রস্তুতি শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN