ভারতের লাদাখে নতুন বিমান যোগাযোগের পরিকল্পনা

ভারতের লাদাখ অঞ্চলে বিমান যোগাযোগ আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার।

ভারতের লাদাখ অঞ্চলে বিমান যোগাযোগ আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। লেহ বিমানবন্দরের পর এবার নুব্রা ভ্যালির থোইস বিমানবন্দর থেকেও বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের ডিসেম্বরেই থোইস থেকে যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হতে পারে। পাশাপাশি কার্গিলের বিদ্যমান এয়ারস্ট্রিপকেও বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার উপযোগী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

লাদাখের দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় পর্যটন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে লাদাখে আকাশপথে যাতায়াতের প্রধান কেন্দ্র লেহ বিমানবন্দর। তবে উচ্চতার কারণে এখানকার আবহাওয়া প্রায়ই ফ্লাইট পরিচালনার জন্য অনুকূল থাকে না। ফলে আবহাওয়ার কারণে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। থোইস থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু হলে লাদাখে আকাশপথে যাতায়াতের বিকল্প আরও বাড়বে।

নুব্রা ভ্যালির কাছে অবস্থিত থোইস বিমানবন্দর কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। বিমানবন্দরটি সিয়াচেনের তুলনামূলক কাছাকাছি হওয়ায় বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু হলে ওই অঞ্চলে যাতায়াতের সময় কমতে পারে। দীর্ঘ সড়কপথের পরিবর্তে আকাশপথ ব্যবহার করে পর্যটক ও অন্যান্য যাত্রীদের দ্রুত নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।

থোইস বিমানবন্দরকে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের উপযোগী করতে ইতোমধ্যে অবকাঠামোগত কাজ শুরু হয়েছে। বিমানবাহিনী টার্মিনালসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির জন্য পাঁচ একর জমি দিয়েছে। পাশাপাশি বিমানবন্দরের রানওয়ে নতুন করে কার্পেটিং বা পুনঃপৃষ্ঠায়নের কাজ চলছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত হওয়ার পর বেসামরিক যাত্রীবাহী বিমান চলাচল শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিমান মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, থোইস থেকে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু হলে নুব্রা ভ্যালি ও আশপাশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের যাতায়াত আরও সহজ হবে। এতে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসা, হোটেল, পরিবহন ও অন্যান্য সেবাখাতও উপকৃত হতে পারে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে কার্গিলেও বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সেখানে বর্তমানে একটি এয়ারস্ট্রিপ রয়েছে। সেটিকে যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার উপযোগী করার পরিকল্পনা করছে সরকার। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে লাদাখের একাধিক অঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্যান্য এলাকার সরাসরি আকাশ যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে।

লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর বিনয় সাক্সেনার মতে, থোইস ও কার্গিলে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল শুরু হলে কার্গিল, গ্রাস, তুরতুক এবং সিয়াচেন বেস ক্যাম্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পর্যটকদের যাতায়াত বাড়তে পারে। ফলে লাদাখের পর্যটন খাত আরও সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি দুর্গম অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.