পরিত্যক্ত ১২ উড়োজাহাজ নিয়ে উভয় সংকটে বেবিচক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বছরের পর বছর পড়ে থাকা ১২টি পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ সরাতে গিয়ে উভয় সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বছরের পর বছর পড়ে থাকা ১২টি পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ সরাতে গিয়ে উভয় সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। একদিকে উড়োজাহাজগুলো বিক্রি করে প্রত্যাশিত অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে থাকায় ব্যাহত হচ্ছে কার্যক্রম এবং হারাতে হচ্ছে রাজস্ব আয়ের সুযোগ।

পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলো ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ও জিএমজি এয়ারলাইনসের। এগুলো বিমানবন্দরের রপ্তানি কার্গো ভবনের সামনের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে। বেবিচকের হিসাব অনুযায়ী, আনুষঙ্গিক সরঞ্জামসহ উড়োজাহাজগুলো প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ১০০ বর্গফুট জায়গা দখল করে আছে। এগুলো সরানো গেলে সেখানে নতুন করে প্রায় ১২টি উড়োজাহাজ পার্কিং বে তৈরি করা সম্ভব।

উড়োজাহাজগুলো বিক্রির জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ তিন লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার দর প্রস্তাব করেছে এরোপোরিয়া অ্যারোস্পেস। করসহ এই প্রস্তাবের মোট মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। সেনা কল্যাণ সংস্থা কর ছাড়া ৩ কোটি ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং সেফ ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন লিমিটেড আড়াই লাখ মার্কিন ডলার প্রস্তাব করেছে।

গত ৭ অক্টোবর বেবিচকের ৩২০তম বোর্ড সভায় উড়োজাহাজগুলো অপসারণ, নিলামে বিক্রি, ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ ও আইনি জটিলতা নিয়ে আলোচনা হয়। সর্বোচ্চ দরদাতার প্রস্তাবকে ভিত্তি ধরে নিলামের প্রাথমিক মূল্য নির্ধারণ এবং বিমান মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদন নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বেবিচক সূত্র জানায়, উড়োজাহাজগুলোর উড্ডয়নযোগ্যতার সনদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিধি অনুযায়ী নিবন্ধন বাতিল করা হয়। একাধিকবার নোটিশ দেওয়ার পরও সেগুলো সরানো হয়নি। পরে ২০২৪ সালের ২৬ মে উড়োজাহাজগুলো বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয় এবং ১ জুন জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

তবে উড়োজাহাজগুলোর মালিকানা ও ঋণের দায় নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ঋণের বিপরীতে দায়বদ্ধ উড়োজাহাজ বাজেয়াপ্তের আদেশ বাতিল চেয়ে অর্থঋণ আদালতে আবেদন করেছে। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের কারণে মামলার কার্যক্রমও আটকে রয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের আইনি মতামতে নিলামে বিক্রির অর্থ আপাতত বেবিচকের পৃথক হিসাবে জমা রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, তিনটি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবের মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতাকে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উড়োজাহাজগুলো সরানো গেলে পার্কিং বে বাড়ানোর পাশাপাশি বিমানবন্দরের কার্যক্রমে চাপ কমানো এবং রাজস্ব আয়ের নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রশাসনিক অনুমোদন ও আইনি জটিলতা কাটিয়ে সেগুলো কবে সরানো সম্ভব হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.