যাত্রী দ্বিগুণ, সক্ষমতায় পিছিয়ে দেশের বিমানবন্দর

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক আকাশপথে যাত্রী চলাচল দুই বছরের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক আকাশপথে যাত্রী চলাচল দুই বছরের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক যাত্রীর সংখ্যা ছিল ৬৪ লাখ ৫০ হাজার, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ২৬ লাখে। তবে যাত্রী চলাচলের এই প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়েনি দেশের বিমানবন্দরগুলোর অবকাঠামো ও সেবার সক্ষমতা। ফলে বাড়ছে ভিড়, ব্যাগেজ পেতে বিলম্ব এবং যাত্রী ভোগান্তি। একই সঙ্গে বাড়তি চাহিদার বড় অংশ কাজে লাগাচ্ছে বিদেশি বিমান সংস্থাগুলো।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে আন্তর্জাতিক যাত্রীর সংখ্যা ছিল ৭৯ লাখ। তাঁদের প্রায় ৯২ শতাংশই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করেছেন। অথচ বিমানবন্দরটির বিদ্যমান বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা ৮০ লাখ। ফলে সক্ষমতার তুলনায় বেশি যাত্রী সামলাতে গিয়ে চাপ বাড়ছে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বারটিতে।

বিদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মানুষের আয় বাড়া, ওমরাহ পালন, চিকিৎসা ও পর্যটনের চাহিদা আন্তর্জাতিক যাত্রী বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। করোনাভাইরাস মহামারির পর ভ্রমণবিধি শিথিল হওয়া, নতুন রুট চালু এবং ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর কারণেও যাত্রী চলাচল বেড়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট অপারেশন্স বিভাগের পরিচালক ক্যাপ্টেন একেএম আমিনুল ইসলাম বলেন, উড়োজাহাজের সীমিত সংখ্যার কারণে বাড়তি চাহিদার পুরো সুবিধা নিতে পারছে না দেশীয় বিমান সংস্থাগুলো। জেদ্দা ও মদিনার মতো গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইটের টিকিট না পেয়ে অনেক যাত্রীকে বিদেশি এয়ারলাইনসের সংযোগকারী ফ্লাইট ব্যবহার করতে হচ্ছে।

বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। আরও ৩৫টি উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা থাকলেও বোয়িংয়ের সরবরাহ ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এবং এয়ারবাসের সরবরাহ ২০৩৩ সালে শুরুর কথা রয়েছে। ফলে বহর সম্প্রসারণে সময় লাগবে।

অন্যদিকে, বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও বড় চ্যালেঞ্জ। দেশে আটটি বিমানবন্দর থাকলেও আন্তর্জাতিক যাত্রীদের অধিকাংশই ঢাকা দিয়ে যাতায়াত করেন। একটি রানওয়ে, ট্রলির সংকট এবং লাগেজ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষার মতো সমস্যা যাত্রীসেবাকে প্রভাবিত করছে।

বেবিচকের সদস্য (এয়ার ট্রাফিক) এয়ার কমোডর মো. নূর-ই-আলম জানিয়েছেন, শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল এক কোটির বেশি যাত্রী সামলানোর সক্ষমতা নিয়ে নকশা করা হয়েছে। প্রয়োজনে এর সক্ষমতা বছরে ২ কোটি ৪০ লাখে উন্নীত করা সম্ভব।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে সেখান থেকে প্রায় ২০টি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে যাত্রীসেবার মান উন্নত করতে অবকাঠামো, জনবল ও দেশীয় বিমান সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.