হজ ব্যবস্থাপনায় আস্থাহীনতা

imagesসরকারি হজ ব্যবস্থাপনার প্রতি দিন দিন আস্থা হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। বিগত বছরগুলোর মতো এবারও নির্দিষ্ট সময়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় (ব্যালটি) হজ যাত্রীদের কোটা অর্ধেকও পূরণ হয়নি। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় (নন ব্যালটি) হজে যেতে নাম রেজিস্ট্রেশন করেও ৩৮ হাজার যাত্রী হজে যেতে পারছেন না। কারণ বেসরকারি ব্যবস্থাপনার নির্দিষ্ট কোটার অতিরিক্ত তারা। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় বলে ব্যালটি ব্যবস্থাপনার প্রতি দিন দিন মানুষ আস্থা হারাচ্ছে। এতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়ার সংখ্যা দিন দিন কমছে। বাংলাদেশ ও সৌদি সরকারের মধ্যে সম্পাদিত ২০১৬ সালের হজ চুক্তি অনুযায়ী, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে হজে যেতে পারবেন ১ লাখ এক হাজার ৭৫৮ জন। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধন করেছেন এক লাখ ৩৯ হাজার ১৮৫ জন। আগামী ৩০ মে পর্যন্ত এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সর্বশেষ গতকাল পর্যন্ত বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রাক নিবন্ধন করেছেন এক লাখ ৩৪ হাজার ৪২৮ জন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রাক নিবন্ধন করেছেন চার হাজার ৭৫৭ জন। এ ছাড়া শর্ত পূরণ করতে না পারায় চলতি বছরও তিনটি হজ এজেন্সি মুসলিম ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস (লাইসেন্স নম্বর ১০৬৩) খাজা এয়ার সার্ভিসেস লিমিটেড (লাইসেন্স নম্বর ৮০) ও মেসার্স মাদার ট্রাভেলস ইন্টারন্যাশনালকে (লাইসেন্স নম্বর ৯৬০) কালো তালিকাভুক্ত করেছে সৌদি আরব সরকার। সৌদি ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সম্পাদিত হজ চুক্তির নীতিমালা অনুযায়ী ১৫০ জন হজ যাত্রীর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে এবং সমঝোতা করে লিড নির্ধারণে ব্যর্থ হয় এই তিনটি হজ এজেন্সি। এসব এজেন্সির মাধ্যমে নিবন্ধিত ১৭২ জন যাত্রীর হজে যাওয়া অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে হজ অফিসার ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল বলেন, ওই ১৭২ ব্যক্তি ইচ্ছা করলেই ৩০ মের মধ্যে এজেন্সি বা বেসরকারি প্রাক নিবন্ধন বাতিলক্রমে সরকারি কোটা পূরণ হওয়ার পূর্বে সরকারিভাবে প্রাক নিবন্ধিত হয়ে চলতি বছরের হজে যেতে পারবেন। এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। এদিকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় আস্থাহীনতার বিষয়ে মিরপুরের বাসিন্দা হাজী আবদুল মজিদ ভূইয়া বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে গিয়ে নানা ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। গাইডের কোনো খোঁজ থাকে না। ঢাকা থেকে গাইড গেলেও তারা থাকেন নানা ধরনের ব্যস্ততায়। ওমরাহ ও হজ পালন কঠিন হয়ে পড়ে। ওমর আলী বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় গত বছর গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। সময়মতো খাবারও পাইনি। কয়েক দিন পর বেসরকারি হজ এজেন্সির সহযোগিতায় সমস্যার সমাধান হয়।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.