ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বাংলাদেশি শ্রমিক কমবে রেমিট্যান্স প্রবাহ

imagesসৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে ৬ শতাংশ কর কেটে রাখবে সৌদি আরব সরকার। এতে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাবে। অন্যদিকে বৈধ পথের পরিবর্তে হুন্ডিসহ অন্য অবৈধ পথে লেনদেন বাড়বে। সম্প্রতি সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী শুরা কাউন্সিলের অর্থ কমিটি রেমিট্যান্সের ওপর এই করারোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্য দেশের শ্রমিকদের রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে এ কর হার আদায় করবে সৌদি সরকার। সৌদি আরবই প্রথম দেশ যারা রেমিট্যান্সের ওপর করারোপ করল।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেমিট্যান্সের উৎস সৌদি আরব। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘদিন ধরে সর্বনিম্ন অবস্থানে থাকায় বিপাকে পড়েছে সৌদি আরবের অর্থনীতি। তাই আয় বাড়াতে এ খাতটিকে বেছে নিচ্ছে দেশটির সরকার।
গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এ করারোপের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। সংবাদমাধ্যম আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবের অডিটিং ব্যুরোর প্রধান ও সাবেক শুরা সদস্য হোসাম আল-আনকারি এ প্রস্তাবনা তৈরি করেন। তিনি বলেন, দেশ থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ অন্য দেশে চলে যাচ্ছে। এটি দেশের স্বার্থে দেশেই বিনিয়োগ বা খরচ হওয়া দরকার। এ জন্য ৬ শতাংশ করারোপের প্রস্তাব করা হয়। এ হার একটু বেশি। তবে প্রথম ৫ বছর অতিক্রম করার পর এই কর কমিয়ে স্থায়ীভাবে ২ শতাংশ করা যেতে পারে। ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউসের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর সময় এ কর কেটে রাখা হবে।
ওই সংবাদে আরও বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ সৌদি আরবে নানা পেশায় নিয়োজিত। প্রতিবছর বহির্মুখী রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। ২০০৫ সালে যেখানে ৫ হাজার ৬০০ কোটি সৌদি রিয়াল (১ হাজার ৪৯৩ কোটি ডলার) রেমিট্যান্স হিসেবে অন্য দেশে চলে যেত, ২০১৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৫০০ কোটি সৌদি রিয়াল (৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলার)। প্রতি ডলারের মূল্য ৩.৭৫ সৌদি রিয়াল।
অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক এমএ মান্নান আমাদের সময়কে বলেন, আপনার কাছ থেকে প্রথম শুনলাম। করারোপের অধিকার সব রাষ্ট্রের আছে। ৬ শতাংশ হারে করারোপ করা হলেও সৌদি থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর হার স্বাভাবিকভাবেই ৬ শতাংশ কমে যাবে। তবে আমরা অবশ্যই বলব আমাদের জন্য কিছু নমনীয় হতে। কেননা স্বল্প আয়ের দেশ হিসেবে, অদক্ষ কর্মী ইত্যাদি বিবেচনায় বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ রেয়াত দেওয়ার বিষয়ে বলা যেতে পারে।
সৌদি আরবে বাংলাদেশের শীর্ষ রেমিট্যান্স প্রেরণকারী দেশ এবং প্রবাসী শ্রমিকদের তৃতীয় সর্বোচ্চ কর্মক্ষেত্র। বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যমতে, ২০১৫ সালে ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৮৮১ বাংলাদেশি বিভিন্ন দেশে কাজের জন্য গেছেন। এর মধ্যে শুধু সৌদি আরবে গেছেন ৫৮ হাজার ২৭০ জন। বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের সবচেয়ে বড় উৎস সৌদি আরব। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে ১৯৭ কোটি ৫১ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা মোট রেমিট্যান্সের ২০ দশমিক ২১ শতাংশ।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এ বিষয়ে আমাদের সময়কে বলেন, তেল বিক্রি থেকে রাজস্ব আয় অনেক কমে গেছে, এ জন্য হয়তো আয় বাড়াতে রেমিট্যান্সের ওপর কর বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি সরকার। এতে তাদের অভ্যন্তরীণ আয় কিছু বাড়বে। তবে সামগ্রিকভাবে বিভিন্ন দেশের নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বিশেষত বাংলাদেশিরা অনেক বেশি মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সরকারের উচিত হবে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা করা। করের হার নিম্ন পর্যায়ে কমিয়ে আনার অনুরোধ করা যেতে পারে। এ ছাড়া একটি নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া যেতে পারে।
ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, করারোপের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশিদের জন্য ভালো সিদ্ধান্ত নয়। সৌদি প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এ সিদ্ধান্তের পর বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থেকে যেতে পারে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.