২ হাজার বছর আগের অন্তঃসত্ত্বা মমির খোঁজ!

বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারসওর জাতীয় জাদুঘরে দুই হাজার বছরের পুরনো বিশ্বের প্রথম অন্তঃসত্ত্বা একটি মিশরীয় মমি আবিষ্কার করেছেন।
তারা এই মমি দেখে তাজ্জব বনে যান।
বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে মমিটি ছিল কোনো পুরুষের।

জানা যায়, ১৮২৬ সালে নীল নদের তীরবর্তী থিবেস শহরে আবিষ্কার করা হয় এই পুরুষবেশী মমিটিকে।
সবাই ভেবেছিলেন এটি বোধ হয় কোনো পুরুষ যাজকের মমি!
মৃত্যুকালে ওই মমির নারীর বয়স ছিল ২০-৩০।
নারীর মমিটি এতো বছরেও নষ্ট হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা মমির সিটি স্ক্যান এবং এক্স-রে করে, মমির পেটে ২৬-৩০ সপ্তাহ বয়সী একটি ভ্রূণের দেহাবশেষ খুঁজে পায়।
প্রত্নতাত্ত্বিক মারজেনা ওজারেক-সিজিলেকে বলেন, আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম এই মমিটি বোধ হয় পুরুষের।
তবে বিভিন্ন পরীক্ষা পর আমরা দেখতে পেলাম মমির স্তন এবং লম্বা চুল আছে।
তারপরে আমরা জানলাম, এটি এক গর্ভবতী নারীর মমি। তার গর্ভে আমরা ছোট হাত-পা (ভ্রূণের) দেখে আমরা হতবাক হয়ে যাই।
গবেষণার ফলাফল জার্নাল অব আর্কিওলজিকেল সায়েন্সে প্রকাশিত হয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে, এটিই সম্ভবত বিশ্বের প্রথম গর্ভবতী মমি।
পোলিশ বিজ্ঞানীরা, চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল ওয়ার্সার জাতীয় জাদুঘরে রাখা ২০০০ বছর বয়সী এই মমির পরীক্ষা করেন।

গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন ডক্টর ওয়াজিয়াচ ইজসমন্ড।
তিনি বলেন, এই মমিটি অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
এটি প্রথম গর্ভবতী নারীর মমি! ১৮২৬ সালে উদ্ধারকৃত এই মমিটি ১৯১৭ সালে পোল্যান্ডের ওয়ারসওতে আনা হয় এবং কফিনের শিলালিপিতে একজন পুরুষ পুরোহিতের নামকরণ করা হয়েছিল। মমিটি একটি কাপড়ের মধ্যে জড়িত ছিল।
বেশ কয়েকটি তাবিজ বাঁধা ছিল। যা প্রাচীন মিশরীয় রাজত্বের দেবতা এবং আকাশের চার পুত্র হোরাসকে উপস্থাপন করে। সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.