কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে পরিবর্তন আসছে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে

EtihadCargoকার্গো হ্যান্ডলিংয়ে পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। অচিরেই এ বিমানবন্দরে নির্মিত হতে যাচ্ছে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির অত্যাধুনিক কার্গো ভিলেজ। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের বর্তমান সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় এবং ভবিষ্যতে কার্গো পরিবহনের প্রয়োজনীয়তা মাথায় রেখে সক্ষমতা বাড়াতে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কার্গো ভিলেজ নির্মাণে ইতোমধ্যে অবকাঠামোগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে ডিপিপি তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

শুধু কার্গো ভিলেজ নয়, বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা বাড়াতে দুটি বোর্ডিং ব্রিজসহ টার্মিনাল ভবনের সম্প্রসারণ, রানওয়ে সম্প্রসারণ, এ্যাপরন সম্প্রসারণ ও নতুন প্যারালাল ট্যাক্সিওয়ে নির্মাণ করতে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে এসব প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্যারালাল ট্যাক্সিওয়ে নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে চুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল। অন্য প্রকল্পগুলোর কাজও খুব শীঘ্রই শুরু হবে বলে জানা গেছে।

শাহ্ আমানত বিমানবন্দরের ম্যানেজার উইং কমান্ডার রিয়াজুল কবির জানান, দেশের অন্য দুটি বিমানবন্দরের তুলনায় এ বিমানবন্দরে কার্গো পরিবহনের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এখানে সেই পরিমাণে সক্ষমতা নেই। ভবিষ্যতে কার্গো পরিবহনের চাহিদা মাথায় নিয়ে এখানে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির কার্গো ভিলেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একজন আর্কিটেক্টকে দিয়ে আমরা অবকাঠামোগত নিরীক্ষা সম্পন্ন করেছি। বিস্তারিত প্রকল্প পরিকল্পনা (ডিপিপি) তৈরি করা হচ্ছে। এরপরই আমরা ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠাব।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের ডিপিপি প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। তাই আশা করছি, ডিপিপি উপস্থাপনের পর খুব দ্রুত এটি একনেক সভায় পাস হবে। আগামী বছর প্রাথমিক কাজ শুরু করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শুধু কার্গো ভিলেজ নয়, ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিবেচনায় সক্ষমতা বাড়াতে বিমানবন্দরে দুটি বোর্ডিং ব্রিজসহ টার্মিনাল সম্প্রসারণ, রানওয়ে সম্প্রসারণ ও প্যারালাল ট্যাক্সিওয়ে নির্মাণ করা হবে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ব্রিটিশ শাসন আমলে ১৯৪০ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এয়ারফিল্ড হিসেবে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৭২ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ঢাকার সঙ্গে সংযোগের জন্য এই বিমানবন্দরে বিমান চলাচল শুরু হয়। পরে ১৯৯০ সালে দুবাইয়ে একটি ফ্লাইট চালু করার মাধ্যমে এটি আন্তর্জাতিকভাবে যাত্রা শুরু করে। তখন দুবাই ও সৌদি আরবের কয়েকটি সিটিতে বিমান চলাচল করত। এরপর ১৯৯৮ সালে সংস্কার কাজ এবং সম্প্রসারণ কাজ শুরু হয়। ২০০০ সালে সংস্কার কাজ শেষ হয়। পরে ২০১৩ সালে ইমারেটস স্কাই কার্গো কোম্পানির মাধ্যমে এখানে কার্গো সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়। কার্গো সার্ভিস চালুর পর থেকে দিন দিন কার্গো পরিবহনের হার বেড়ে চলছে। কিন্তু সেভাবে এখানে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে সুযোগ সুবিধা বাড়ছে না। কার্গো পরিবহনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করতে এ কার্গো ভিলেজ নির্র্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান চাহিদার আলোকে চট্টগ্রাম শাহ্ আমানত বিমানবন্দরে ফ্লাইট ও যাত্রী বাড়ছে। কিন্তু যে হারে ফ্লাইট বাড়ছে সে অনুযায়ী এখানে অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা নেই। এখন পর্যন্ত এ বিমানবন্দরে কোন প্যারালাল ট্যাক্সিওয়ে নেই। পর্যাপ্ত রানওয়ে সুযোগ সুবিধাও নেই। এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষমতা বাড়াতে এখানে রানওয়ে ও টার্মিনাল সম্প্রসারণ ও যাত্রীদের সুবিধার জন্য প্যারালাল ট্যাক্সিওয়ে নির্র্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া উড়োজাহাজ পার্কিংয়ের জন্য এ্যাপরন সম্প্রসারণ করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

গত চার মাসের কার্গো মালামাল পরিবহনের হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, জানুয়ারি মাসে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮০১ কেজি কার্গো পরিবহনের মাধ্যমে আমদানি হয়েছে। বিপরীতে রফতানি হয়েছে ১৪ হাজার ৭৯৫ কেজি মালামাল। ফেব্রুয়ারি মাসে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৯৪ কেজি, রফতানি হয়েছে ২৬ হাজার ৩০৬ কেজি। মার্চ মাসে আমদানি হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ২৫৭ কেজি, রফতানি হয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ২৩৬ কেজি মালামাল। এপ্রিল মাসে আমদানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ২৭ হাজার ৯৪৪ কেজি। ওই মাসে রফতানি হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ৫০৭ কেজি। সর্বশেষ গত মাসে আমদানি হয়েছে ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৫১৭ কেজি, পাশাপাশি রফতানি হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৫৩ কেজি। এ হিসাবে দেখা গেছে, দিন দিন এ বিমানবন্দরে কার্গো পরিবহনে মালামাল আমদানি-রফতানি বাড়ছে।

বিমানবন্দরের কার্গো ম্যানেজার ওমর শরীফ জানান, কার্গো সার্ভিস চালু করার পর থেকে এখানে দিন দিন মালামাল পরিবহন বাড়ছে। এ বিমানবন্দরে রফতানির তুলনায় আমদানিই বেশি হয়। অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে এখানে মালামাল পরিবহন আরও বাড়বে। তিনি আরও বলেন, শুনেছি কর্তৃপক্ষ এখানে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির কার্গো ভিলেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি নির্মিত হলে এ বিমানবন্দরে কার্গো মালামাল পরিবহন আরও সহজ ও গতিশীল হবে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.