মাইনাস ২৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও পানি ফুটবে যেখানে

2016_06_18_21_03_00_nuFuc03FUVhiIZayombdYvfrAgJG8p_originalমহাকাশের তাপমাত্রা অনেক কম, মাইনাস ২৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (-৪৫৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট)। অর্থাৎ পরম শূন্য তাপমাত্রার চেয়ে সামান্য কম! পরম শূন্য তাপমাত্রা মানে হচ্ছে পৃথিবীতে এর চেয়ে নিচে আর কোনো তাপমাত্রা হতে পারে না বা এর চেয়ে ঠান্ডা কিছু সম্ভব নয়। এই তাপমাত্রা হলো মাইনাস ২৭৩.১৫ ডিগ্রি সেলিসিয়াস (–৪৫৯.৬৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট)।

মহাশূন্যে যদি কাউকে কোনো স্পেস স্যুট ছাড়া ছেড়ে দেয়া হয় তাহলে কী ঘটবে? সাধারণ জ্ঞানে তো বলে, সঙ্গে সঙ্গে জমে শক্ত হয়ে যাবে।

কিন্তু এমন পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটার কথা নয়। কারণ অত্যন্ত ঠান্ডা বাতাস বা পানিতে থাকলে শরীরের তাপ দ্রুত বেরিয়ে যাবে। এটা ঘটবে পরিচলন প্রক্রিয়ায়, এতে কিছুটা সময় লাগবে।

এখন ব্যাপারটা যদি কোনো শূন্যস্থানে ঘটে যেখানে তা পরিবহনের কোনো মাধ্যম নেই? যেমন: মহাশূন্য, সেখানে কী ঘটবে?

এমন পরিবেশে এক অদ্ভূত এবং ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা হবে: আপনার রক্ত, বিভিন্ন গ্রন্থি এবং অক্ষিগোলক প্রচণ্ডভাবে গরমে ফুটতে শুরু করবে। আমরা তো আগেই জানলাম, সেখানকার তাপমাত্রা মাইনাস ২৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাহলে এতো ঠান্ডা স্থানে রক্ত ফুটবে কী করে?

গলনাঙ্ক বা স্ফুটনাঙ্ক কিন্তু চাপের ওপরও নির্ভর করে। অর্থাৎ একটা বস্তু কতো তাপমাত্রা গলবে বা ফুটবে সেটা নির্ভর করে পরিবেশের চাপ কেমন।

মহাশূন্যে তাপ যেমন কম চাপও অত্যন্ত কম। এ কারণে পানির স্ফুটনাঙ্ক হঠাৎ করে এতো নিচে নেমে যাবে যে মাইনাস ২৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও রক্ত ফুটতে থাকবে। অর্থাৎ সাড়ে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসেই রক্ত ফুটতে শুরু করে। যেখানে স্বাভাবিক পরিবেশে পানি ফোটে ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এই ঘটনার পর পরপরই আপনার শরীর জমে শক্ত হয়ে যাবে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.