বিমানে পদোন্নতির জট খুলছে, অদক্ষদের তদবিরে অতিষ্ট কতৃপক্ষ!

দীর্ঘ দিন পর অবশেষে বিমান কর্তৃপক্ষ সকল স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীকে স্থায়ীকরণ ও পদোন্নতির ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন। একই পদে বিমান কর্মীগণ নূন্যতম ৩ বছর হতে ২৫ বছর পর্যন্ত থেকে ও পদোন্নতি না পেয়ে হতাশ হয়ে যাচ্ছিলেন। এই অবস্থায় বিমান প্রশাসনের এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে বলে সংশ্লিস্টরা বলেছেন।

তবে পদোন্নতি দানের ক্ষেত্রে বিমান কতৃপক্ষের কতিপয় কর্মকর্তার রহস্যজনক আচরণের কারণে কর্তৃপক্ষের এ অর্জন ম্লান হতে চলেছে। যা পরবর্তিতে জটিল হতে জটিলতর আকার ধারণ করে শেষ পর্যন্ত মামলায় পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানিয়েছেন।

বর্তমানে বিমানের সংশ্লিস্ট বিভাগের দায়িত্ব পালন কারী কতিপয় মধ্যম সারীর দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এই পদোন্নতি প্রদানের প্রক্রিয়ার সংগে জড়িত। তাদের মধ্যে বিমানের চাকুরী জীবনে দূর্নীতির কারণে ডিমোশন প্রাপ্ত, যৌথ বাহিনীর হাতে অবৈধ ডকুমেন্টসহ আটক ও রুলস অমান্য করে দীর্ঘদিন বিদেশে থেকে পরবর্তিতে চাকুরী ফিরে পাওয়া এমন ব্যাক্তিদের দাপট লক্ষনীয়।

ঐ দূর্নীতিবাজ চক্র বর্তমান প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের অগোচরে বা ম্যানেজ করে বেশকিছু অনিয়ম ও দূর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। এরা বিমানে পদোন্নতির ক্ষেত্রে এসিআর (বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন) যথাযথ ভাবে আমলে না নিয়ে পদোন্নতির বিবেচনার আওতায় নিয়ে আসে।

বিধি অমান্য করে সর্বশেষ তিন বছরের এসিআর জমা না দেওয়ার পরেও কৌশল অবলম্বন করে  নিয়ম বহির্ভুত ভাবে তিন জন গ্রাউন্ড সার্ভিস স্টাফকে পদোন্নতির ব্যবস্থা করে। যাদের নামের অদ্যাক্ষর এম, জেড, ও এন। সংশ্লিস্ট বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা সহায়তায় তারা জুনিয়র অফিসার হিসেবে পদোন্নতি প্রাপ্ত হন।

জানাযায়, উক্ত বিভাগের একজন ‌’এ’ অদ্যাক্ষরের কর্মচারীর এসিআর বিহীন পদোন্নতি সাক্ষাৎকার পর্যন্ত সম্পন্ন হয়। এসিআর বিহীন পদোন্নতি তালিকা প্রকাশে কোন একজন কর্মকর্তার বিরোধিতার কারণে সাক্ষাৎকার পরবর্তী বিধি পরিপন্থি এসিআর জমা নেওয়া হয় এবং উক্ত কর্মচারীর পদোন্নতির চিঠি দুদিন পর আলাদাভাবে প্রকাশিত হয়। তিনিও এখন পদোন্নতি প্রাপ্ত সুপারভাইজার বটে।

বিমানের নিয়ম অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক অভিযুক্ত কর্মকর্তা কর্মচারীর পদোন্নতি হওয়া বিধান নেই অথচ ফৌজদারী মামলার চার্জশিট ভুক্ত আসামী হওয়া সত্বেও অদৃশ্য কারসাজিতে “ওয়াই” অদ্যাক্ষর যুক্ত কর্মচারী পদোন্নতি প্রাপ্ত বর্তমানে জুনিয়র অফিসার।

বিমানের সর্বস্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী এ ঘটনায়  হতবাক। কিভাবে প্রচলিত রুলস ভঙ্গ করে অদৃশ্য শক্তির ইশারায় এ অসাধ্য সাধন সম্ভব হলো তা বর্তমানে টক অব দা বিমান। অপর দিকে অনেকের পদোন্নতির সাক্ষাৎকারে পূর্বের নিস্পত্তিকৃত মামলা আমলে নিয়ে বঞ্চিত করায় হতাশা গ্রস্ত বলে জানা যায়।

আরো জানা যায় সর্বশেষ বছরের এসিআরএ বেশ কিছু উর্ধতন কর্মকর্তার অদক্ষতার কারণে বিমান কর্তৃপক্ষ আন্ডার গ্রেডিং ও পদোন্নতির জন্য অনুপোযুক্ত বলে বিবেচিত করেন। কিন্তু বিমান ইতিহাসে এই প্রথম দুইজন ডিজিএম তাদের এসিআর তদবিরের মাধ্যমে ঠিক করতে সমর্থ হন।

উক্ত ডিজিএম দ্বয়ের একজন চাকুরী কালীন মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটে ছিল যার রেশ এখনো রয়েছে বলে জানা যায়। বিমান কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়নে উর্ধতন কর্মকর্তার পদোন্নতিতে শিক্ষাগত যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিয়ে স্নাতোকত্তোর  ডিগ্রি অপরিহার্য করেন।

জানাগেছে, আসন্ন পদোন্নতির প্রাক্কালে স্নাতক ডিগ্রিধারী বেশকিছু কর্মকর্তা উক্ত সিদ্ধান্ত শিথিল বা পরিবর্তনের জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.