বরিশালে মেয়েকে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করায় মা-বাবাসহ গ্রেপ্তার ৩

মেয়েকে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করায় মা-বাবাসহ তিনজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (১৩ নভেম্বর) মাঝরাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ড নিউ সার্কুলার রোড এলাকার গাজী বাড়ি মসজিদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।
রবিবার (১৪ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালী মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম।

তিনি জানান, রবিবার ওই কিশোরী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করলে সেটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
এর আগে ওই কিশোরী এ ঘটনায় পুলিশের সহায়তা চাইলে শনিবার মধ্যরাতে তার মা নাসরিন বেগম ও বাবা সামসুল সিকদার ও নগরীর মুনসুর কোয়ার্টার এলাকার মিম মধুঘরের মালিক আনোয়ার হোসেন হাওলাদারকে আটক করা হয়।
পরে রবিবার কিশোরীর দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পঠানো হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নির্যাতিত কিশোরীকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে কিশোরী উল্লেখ করেছে, মা নাসরিন বেগম ও বাবা সামসুল সিকদার দুজনেই বাসায় বসে মাদক ও নারী ব্যবসা করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
বেশ কয়েক মাস ধরে তাকে (কিশোরীকে) দেহ ব্যবসা করার কথা বলছিলেন মা-বাবা। কিন্তু কিশোরী তাতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিনিয়তই মারধর করা হতো।
জুন মাসে মা নাসরিন বেগম নগরীর মুনসুর কোয়ার্টার এলাকার মিম মধুঘরের মালিক আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের বাসায় নিয়ে আনোয়ারের সঙ্গে একটি কক্ষে আটকে রাখে ওই কিশোরীকে।
পরে আনোয়ার তার শ্লীলতাহানি করে।

ওদিকে জুন থেকে অক্টোবর এই পাঁচ মাসে তার মা-বাবার সরাসরি সহায়তায় ১২৫ বার যৌন নির্যাতন করেছেন ব্যবসায়ী আনোয়ার।

শনিবার বিকেলে ঘর থেকে পালিয়ে ওই কিশোরী বরিশাল মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে গিয়ে পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খানকে বিস্তারিত জানালে তিনি তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কোতয়ালী মডেল থানাকে নির্দেশ দেন।
পরে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার পুলিশ শনিবার রাতেই অভিযান চালিয়ে কিশোরীর মা নাসরিন বেগম, বাবা সামসুল সিকদার ও মধু ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.