দুর্যোগের সময় আ.লীগ মানুষের পাশে থাকে, বিএনপি থাকে না: তথ্যমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘গণমানুষের দল আওয়ামী লীগই সবসময় দুর্গত মানুষের পাশে থাকে, বিএনপি থাকে না, বরং তারা মানুষের মৃত্যু, দুর্যোগ, দুর্বিপাক নিয়ে উপহাস করে। ’

রোববার বিকেলে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে সেখানে ২৫ সেপ্টেম্বর করতোয়া নদীতে নৌকাডুবিতে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের মাঝে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা বিতরণে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির ‘শোকাহত পঞ্চগড়’ শিরোনামের এ ত্রাণ-সহায়তা বিতরণে দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন রেলপথমন্ত্রী ও পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাড. মো. নূরুল ইসলাম সুজন।

ড. হাছান বলেন, ‘আজকে দল হিসেবে আমরা আপনাদের কাছে এসেছি, কিন্তু দেশে একটি বিরোধী দল আছে, রাজপথের বিরোধী দল।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের বাড়ি উত্তরবঙ্গে, পাশের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে, আসতে যেতে লাগে একঘণ্টা বা দেড় ঘণ্টা। ফখরুল সাহেব কিন্তু এখনো আসেননি।

আমরা যাওয়ার পর উনি আসবেন আমি জানি, কারণ আওয়ামী লীগ চলে এসেছে, বিএনপিকে তো আসতে হবে। উনি না এসে ঢাকায় বসে নানা ধরনের কথা বলেছেন, এরা এগুলোই করেন, দুর্গতের পাশে থাকেন না। ’

সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘আমি চট্টগ্রামের মানুষ, নদী এবং সমুদ্রপাড়ের মানুষ। ১৯৯১ সালের  ঘুর্ণিঝড়ের সময় আমি চট্টগ্রাম শহরে ছিলাম। আকাশে আগুনের কুণ্ডলী উড়েছে। ঘটনার দু’একদিন পরে পার্লামেন্টে আমাদের দলের পক্ষ থেকে সংসদে তখনকার বিরোধীদলীয় নেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন যে, কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া সে দিন পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে নির্লজ্জের মতো বলেছিলেন, যত মানুষ মরার কথা ছিল অতো মানুষ মরে নাই। তখন জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, কতো মানুষ মরলে ততো মানুষ হতো আপনি বলেন। এর কোনো জবাব ছিল না, অর্থাৎ তারা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ায় না। তারা মানুষের মৃত্যু, দুর্যোগ, দুর্বিপাক নিয়ে উপহাস করে। ’

এখানেই খালেদা জিয়ার সাথে শেখ হাসিনার পার্থক্য, বিএনপির সাথে আওয়ামী লীগের পার্থক্য উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ শুধু কথা বলে না, মানুষের পাশে থাকে, মানুষের পাশে দাঁড়ায়। সেই কারণেই আমরা এসেছি, আমাদের দলের নেতারা ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এখানে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঝাঁপিয়ে পড়া দূরে থাক, তাদের দেখাও যায়নি। ’

তথ্যমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, ‘কিন্তু ভোট এলে তারা আসবে, বলবে পরীক্ষার খাতায় কি কি ভুল হয়েছে। ওদের পরীক্ষার খাতা তো সাদা। পরীক্ষাই দেয় নাই। আমরা তো লিখছি। আমরা ১৪ বছর ধরে লিখছি, আরো এক বছর লিখবো। লিখলে তো টুকটাক ভুল হবে। ওরা আসবে পরীক্ষার খাতায় কি ভুল হয়েছে সেটি দেখিয়ে দেওয়ার জন্য। তখন তাদেরকে বলবেন, এতদিন আপনাদেরকে দেখি নাই কেন, আপনারা শীতের পাখি এসেছেন সাইবেরিয়া, হিমালয় থেকে, ওখানেই চলে যান। ’

তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বিদেশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফরে থেকেও আপনাদের নেতা সুজন ভাইকে, ত্রাণমন্ত্রীকে, ধর্মমন্ত্রীকে ফোন করেছেন, দলকে নির্দেশনা দিয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে সবাই ছুটে এসেছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতির পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে। ‘

তিনি জানান, প্রত্যেক নিহতের ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে জেলা প্রশাসন থেকে ২০ হাজার, ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে ২৫ হাজার, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৫০ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে। সুজন ভাই উকিল মানুষ এরপরও তিনি প্রত্যেককে ৫ হাজার ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পক্ষ থেকে প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে প্রকৃতপক্ষে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী হাছান মাহমুদ তার বক্তৃতার শুরুতেই নৌকাডুবিতে মৃত্যুবরণকারীদের বিদেহী আত্মার শান্তি ও তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তির জন্য স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা জানান এবং বলেন, ‘এই ঘটনার পরপর আমাদের দলের অত্র এলাকার সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সরকারের পুলিশ বাহিনী, উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, ফায়ার বিগ্রেড, ডুবুরিরা ঝাঁপিয়ে পড়েছে, এখনো যে তিনজনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি তাদেরকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। যারা এই উদ্ধার কাজে অংশগ্রহণ করেছেন, বিশেষ করে ডুবুরিরা, সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাই। আমাদের নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সবসময় আপনাদের পাশে আছেন এবং থাকবেন। আমাদের দল সবসময় আপনাদের পাশে আছে এবং থাকবে। ’

স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে বোদা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান সুজা, সাধারণ সম্পাদক ফারুক আলম, মাড়েয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু আনছার রেজাউল করিম শামীম ও সাধারণ সম্পাদক সুশীল বর্মণ এবং শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডেন্ট সুকুমার চৌধুরী প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য নৌকাডুবির ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরিরা ৬৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে, নিখোঁজ তিনজনের মরদেহ উদ্ধারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.