গ্রেনেড হামলার রায় ‘অল্প দিনেই’: আইনমন্ত্রী

02_Anisul+Huq_Discussion_Criminal+Justice+Day_170714_0003গ্রেনেড হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের মামলার রায় ‘অল্প কিছু দিনের’ মধ্যে হবে বলে আশা করছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

শনিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “মামলাটি এখন শেষ পর্যায়ে। আশা করা যায়, অল্প কিছু দিনের মধ্যেই মামলাটির রায় হবে।”

মামলার পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।

এর আগে গত ১১ অগাস্ট আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মন্ত্রী বলেছিলেন, দুই মাসের মধ্যেই হবে ওই মামলার রায় হবে।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে ২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট চালানো গ্রেনেড হামলার আলোচিত এই মামলায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানসহ বিএনপির কয়েকজন নেতাও আসামি।

হামলায় দলটির তৎকালীন মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং কয়েকশ’ আহত হন।
সন্ত্রাসবিরোধী ওই সমাবেশের প্রধান অতিথি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষ হওয়ামাত্র গ্রেনেড হামলা ও গুলি বর্ষণ শুরু হয়। এতে অল্পের জন্য শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচণ্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তির গুরুতর ক্ষতি হয়।

বিএনপি আমলে ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিতের চেষ্টার পর ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে সিআইডি অভিযোগপত্র দেওয়ার পর শুরু হয় এই মামলার বিচার। অধিকতর তদন্ত পেরিয়ে ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার আদালতে মামলাটির সাক্ষ্যাগ্রহণ চলেছে।

মামলার দ্বিতীয় তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার ফজলুল কবির রাষ্ট্রপক্ষের ২২৪তম সাক্ষী। গত জুন থেকে তার সাক্ষ‌্যগ্রহণ চলছে। আগামী ২২ ও ২৩ অগাস্ট তাকে আসামিপক্ষের আরও কয়েকজনের অবশিষ্ট জেরা করার দিন রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, অধিকতর তদন্তের কর্মকর্তা আবদুল কাহার আকন্দের জবানবন্দি ও জেরা শেষ হলে সাক্ষ্যগ্রহণের ইতি টানা হবে। এরপর যুক্তিতর্ক শেষে হবে রায়।

অনুষ্ঠানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের বের করতে একটা কমিশন গঠনের চিন্তা-ভাবনা চলছে বলে জানান আইনমন্ত্রী।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে বঙ্গবন্ধু হত্যায় দায়ী করে আওয়ামী লীগ নেতারা তার মরণোত্তর বিচারের দাবি জানিয়ে আসছেন।

এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “প্রথম কথা ফৌজদারি আইনে যদি কেউ মারা যায়, তার কিন্তু আর বিচার করা যায় না। সেটা সম্ভব না। তার জড়িত থাকার কথা যদি প্রমাণ হয়, তবে জনগণ তাকে ঘৃণার চোখেই দেখবে।

“যারা যারা এর নেপথ্যে ছিলেন, ইতিহাসের কারণেই কিন্তু সেটা খুঁজে বের করা দরকার। তাদের খুঁজে বের করার বিষয়ে কমিশন গঠনের চিন্তা-ভাবনা চলছে।”

বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িতদের মধ্যে আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে। এর মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। বাকি সাতজনের মধ্যে পলাতক অবস্থায় একজন মারা গেছেন; ছয়জন এখনও পলাতক।

এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, “আমরা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের মাধ্যমে যারা সরাসরি জড়িত ছিলেন, যারা ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের কিন্তু বিচারের আওতায় আনতে পেরেছি; সাজা দিতে পেরেছি।”

“খুনি মুশতাক যদি বেঁচে থাকত, তার যদি বিচার করা যেত, মাহবুবুল আলম চাষীর যদি বিচার করা যেত, এখন পলাতক রশীদকে যদি বের করা যায় তাহলে এর নেপথ্যে আরও কারা আছে সেটা বের করা যাবে।

“যারা হত্যায় জড়িত নয়, কিন্তু বাইরের ষড়যন্ত্রে সঙ্গে জড়িত, তাদের পেলে আমরা হয়তো অনেক তথ্য পেতাম। সেটা সম্ভব নয়। আমার মনে হয়, এখন কমিশন করে অন্তত জিজ্ঞাসা করে ইতিহাসের জন্য এই জিনিসটা করা উচিৎ।”

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.