‘আন্দোলনের সুনামিতে ভেসে যাবে সরকার’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নির্বিচারে গ্রেপ্তার, নির্যাতন, অত্যাচার, বেছে বেছে খুনের মাধ্যমে গায়ের জোরে বন্দুকের নলের মুখে ক্ষমতার যে ময়ুর সিংহাসন পেতেছে তা এখন উল্টে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ক্রুদ্ধ জনগণ ক্ষোভে-দ্রোহে ফুঁসে উঠেছে। জনগণ পতনের ক্ষণ গণনা করছে। ফলে অতীতের ভোট ডাকাতির তিনটি জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে জনগণের মধ্যে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করতে যেসব ভয়ানক পন্থা অবলম্বন করেছিল, এখন সেই একই পথে নেমেছে আওয়ামী মাফিয়া সরকার। দমন-পীড়ণ, মধ্যরাতে তুলে নিয়ে যাওয়া, গুম-খুন-জঙ্গি নাটক শুরু করেছে আবারো।
গণতন্ত্রের অস্তিত্বকে নিশ্চিহ্ন করে দাম্ভিকতা ও মিথ্যার বেসাতির মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করার কৌশল নিয়েছে তারা। একইসঙ্গে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দায়ের, পাইকারি হারে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নির্যাতন চালিয়ে দেশটাকে নরকে পরিণত করেছে সরকার।

বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা বলেন রিজভী।

তিনি বলেন, আতঙ্কিত ও শিহরিত জনপদে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিদিনই আমাদের নেতাদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে। তুলে নিয়ে কয়েকদিন গুম রাখার পর গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। জামিন বাতিল করে জেলে পুরছে। সারাদেশে প্রতিদিন বিএনপির নেতাদের বাড়ি বাড়ি অভিযান চালাচ্ছে আওয়ামী পুলিশ। বিএনপি নেতাদের বাড়িতে অভিযানকালে হয়রানি, দুর্ব্যবহার করছে। নারীদের অপদস্ত করছে।

’ফরিদপুরে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের আগে গণগ্রেপ্তার করতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাড়িতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। নগরকান্দায় সাতজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ফরিদপুরে অন্তত ছয়জন নেতার বাড়িতে অভিযানের নামে হয়রানি করেছে পুলিশ। এলাকায় এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে, নেতা-কর্মীরা এলাকাছাড়া। প্রতিটি বিভাগীয় গণসমাবেশকে বানচাল করার জন্য যানবাহন-পরিবহন বন্ধ করে দিচ্ছে। পথে পথে হামলা করছে। গ্রেপ্তার মামলা করছে। তাতে কি শেখ হাসিনা রুখতে পারবে এই জনতার সাগরে ওঠা টালমাটাল জোয়ার।’

রিজভী বলেন, দুই মাস আগেও নিশিরাতের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুব খোশ মেজাজেই ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বিএনপি যদি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও করতে চায়, বাধা দেব না। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন হলে চা খাওয়াবো। তারপর গত ১৪ আগস্ট বললেন, আমাদের বিরোধী দল একটা সুযোগ পাচ্ছে, তারা আন্দোলন করবে, করুক। আমি আজকেও নির্দেশ দিয়েছি খবরদার যারা আন্দোলন করছে তাদের কাউকে যেন গ্রেপ্তার করা না হয় বা ডিস্টার্ব করা না হয়। তার এই সুবচন নির্বাসনে গেল কদিন পরেই। এই অমিয় বচন উবে গেল। যখন তিনি দেখলেন জনগণ রাজপথে নেমেছে, লাখে লাখে-বেশুমার। চোখে সরষে ফুল দেখতে শুরু করলেন তিনি। তার প্রকৃত খোলস উন্মোচিত হয়ে গেল। হিংস্র হিংসাত্মক চেহারা আবারো আত্মপ্রকাশ হলো।

সাবেক এই ছাত্র নেতা বলেন, শেখ হাসিনার নির্দেশে গুলি করে হত্যা করা হলো আমাদের পাঁচ নেতাকে। এখন দমন-নিপীড়ণ, জুলুম, নির্যাতন, গুম, মিথ্যা মামলা ও গ্রেপ্তারে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সরকারের পায়ের নিচে থেকে মাটি সরে গেছে। শেখ হাসিনা প্রথমে হুংকার দিলেন শাপলা চত্বরে হেফাজতের মত গণহত্যার মাধ্যমে বিএনপিকে দমন করবেন। কিন্ত দেখল জনগণ তার এই হুংকার পাত্তা দিচ্ছে না। তারপর বললেন, বাড়াবাড়ি করলে বেগম খালেদা জিয়াকে আবারো জেলে ঢুকাবেন। এতে বিএনপি পরোয়া করছে না দেখে এখন হুংকার দিচ্ছেন বিএনপি নেতাদের রেহাই দেবেন না।

রিজভী বলেন, সরকারকে বুঝতে হবে অতীতের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এবারের আন্দোলনের মাত্রা হবে ভিন্ন। সারাদেশে একনায়কতান্ত্রিক ফ্যাসীবাদী সরকারের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হয়েছে। তার নেতৃত্বে জনগণের স্বতঃফূর্ত অংশগ্রহণে আন্দোলন এখন গণমুখী। জনতার হাতে স্টিয়ারিং। মাফিয়া সরকার ও তাদের পোষ্যরা কোনোক্রমেই রুখতে পারবে না এই গণজোয়ার। জনগণের লক্ষ্য বিজয়। সে লক্ষ্যে পৌঁছাতে যেখানে যে বাধা আসবে তা প্রতিহত করেই এগিয়ে যাবে তারা। এবার আন্দোলনের সুনামি হবে। সেই সুনামিতে সরকার ভেসে যাবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের অনুকুল সমাজভূমি বলে কিছু নেই। এখানে ফ্যাসিবাদ বেশিদিন টিকতে পারবে না। বাংলাদেশের মসনদ শেখ হাসিনার পৈতৃক সম্পত্তি নয়। সুতরাং তার পছন্দের বাড়ি গণভবন চিরস্থায়ী নিবাস হবে না। হুমকি-ধমকি হামলা মামলা গ্রেপ্তার গুম-খুনে এবার আর কাজ হবে না। আপনারা বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন যত দ্রুত অনুভব করবেন ততই আপনাদের মঙ্গল। আপনাদের সময় শেষ। দ্রুত সংসদ ভেঙে দিন, অবিলম্বে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সরে যান।

তিনি বলেন, বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের গ্রেপ্তার এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তাদের মামলা প্রত্যাহারসহ নিঃশর্ত মুক্তির জোর আহ্বান জানাচ্ছি। নেতা-কর্মীদের আহত করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। আহত নেতা-কর্মীদের আশু সুস্থতা কামনা করছি।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.