ট্রাম্পের সম্পদ কত?

b3e376a9a1270b85e5e800ac43f18389-Donald-Trump-afpডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, বিশ্বজুড়ে তাঁর থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মোট মূল্যমান ১০ বিলিয়ন ডলার হবে।

ট্রাম্পের দাবির সত্যতা জানার একমাত্র উপায় তাঁর সবশেষ আয়কর হিসাব। কিন্তু আয়কর হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করতে ট্রাম্প গররাজি।

রিপাবলিকান পার্টির এই প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর যুক্তি, তাঁর আয়করের হিসাব এখন রাজস্ব বিভাগ নিরীক্ষা করছে। নিরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত হিসাব প্রকাশ করবেন না তিনি।

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রেসিডেন্ট প্রার্থীই তাঁদের আয়করের হিসাব নির্বাচনের আগেই দিয়েছেন। ট্রাম্পের ক্ষেত্রে আয়করের হিসাব প্রকাশে দারুণ অনীহা দেখা যাচ্ছে।

ট্রাম্পের সুরে সুর মিলিয়েছেন তাঁর নতুন প্রচার ব্যবস্থাপক কেলিঅ্যান কনওয়ে।

পাঁচ মাস আগে সিনেটর টেড ক্রুজের হয়ে কাজ করছিলেন কনওয়ে। তখন তিনি ট্রাম্পকে তাঁর আয়করের ব্যাপারে ‘স্বচ্ছ’ হওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু এখন নতুন চাকরিতে ঢুকে তাঁর ভোল পালটে গেছে।

এবিসি টিভির সঙ্গে আলাপে কনওয়ে যুক্তি দেখান, নিরীক্ষা ব্যাপারটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আয়করের হিসাব প্রকাশ করা ঠিক হবে না। তা ছাড়া এ-সংক্রান্ত তথ্য জেনে সাধারণ মানুষের লাভ কী? তারা জানতে চায়, হিলারি ক্লিনটন বা ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হলে তাদের আয়করের হার কত দাঁড়াবে।

রাজস্ব বিভাগ জানিয়েছে, নিরীক্ষা চলার সময় আয়করের হিসাব প্রকাশে কোনো বাধা নেই।

ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ইতিমধ্যে তাঁর সবশেষ আয়করের হিসাব প্রকাশ করেছেন।

ট্রাম্পের রানিংমেট মাইক পেন্স বলেছেন, তিনি নির্বাচনের আগেই তাঁর আয়করের হিসাব প্রকাশ করবেন।

শত আলোচনা-সমালোচনা সত্ত্বেও ট্রাম্প এ ব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন। কিন্তু কেন?

এই প্রশ্নের একটি জবাব মিলেছে চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্ক টাইমসের উদ্যোগে চালানো একটি অনুসন্ধানী সমীক্ষায়। একটি নির্ভরযোগ্য অডিট কোম্পানির সাহায্যে ও উন্মুক্ত বিভিন্ন নথি ব্যবহার করে ওই সমীক্ষা চালানো হয়। এতে দেখা যায়, ট্রাম্পের মোট সম্পদের পরিমাণ সম্ভবত তাঁর দাবির চেয়ে অনেক কম। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাঁর মালিকানাধীন সম্পত্তি কোনো না কোনো বিনিয়োগকারীর সঙ্গে যুক্ত। এই সব বিনিয়োগকারীর অনেকেই চীনের। তা ছাড়া এর প্রায় প্রতিটির মাথায় রয়েছে বড় অঙ্কের ঋণ।

ট্রাম্পের সম্পদের প্রকৃত মূল্য নিয়ে নানা জল্পনা আছে। ফোর্বস ও ফরচুন ম্যাগাজিন অনুসারে, এই সংখ্যা বড়জোর পাঁচ বিলিয়ন ডলার।

ট্রাম্পের জীবনীকার টিমথি ও’ব্রায়ানের হিসাব অনুসারে, ২০০৫ সালে ট্রাম্পের সম্পত্তির মূল্য ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল না।

ভ্যানিটি ফেয়ার পত্রিকা বিভিন্ন সূত্র অনুসরণ করে ট্রাম্পের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ সম্ভবত এক বিলিয়ন ডলারেরও কম বলে জানিয়েছে।

ট্রাম্প ঠিক কী পরিমাণ সম্পদের মালিক, তা জানা জরুরি। কারণ, তিনি নিজেকে একজন সফল ব্যবসায়ী দাবি করেন। প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে এটাই তাঁর একমাত্র যোগ্যতা। তা ছাড়া তিনি কত আয়কর দেন, তাও বোঝা যাবে।

নিন্দুকেরা বলছে, ট্রাম্পের মোট সম্পদ তাঁর দাবির চেয়ে অনেক কম। তিনি মোটেই তেমন সফল কোনো ব্যবসায়ী নন। গুমর ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে নিজের আয়করের হিসাব প্রকাশে এমন আপত্তি করছেন ট্রাম্প।

উইকিলিকস জানিয়েছে, ট্রাম্পের আয়করের হিসাব তারা ফাঁস করার তালে আছে

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.