কাশ্মীর সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান চাইলেন মোদি

017ce6e01a5470ccc894b486aa5952d8-2কাশ্মীর সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান চান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, এক মাসের বেশি সময় ধরে চলমান অস্থিরতা নিরসনে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন। এ জন্য সব রাজনৈতিক দলকে স্থানীয় জনগণের কাছে পৌঁছাতে হবে। গতকাল সোমবার মোদি এসব কথা বলেন।
মোদি জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে গতকাল নয়াদিল্লিতে বৈঠক করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর একটি বিবৃতি দিয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানান, ‘চলমান সমস্যার জন্য সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকেই আমাদের একটি স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে অবশ্যই একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
গভীর দুঃখ প্রকাশ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রতিক বিশৃঙ্খলায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁরা আমাদেরই অংশ, এই দেশের মানুষ। তাঁরা আমাদের দেশের তরুণ, নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মী বা পুলিশ। এটা আমাদের পীড়া দেয়।’
কাশ্মীর উপত্যকায় সহিংসতায় এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ জন প্রাণ হারিয়েছে। আহত হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। তাদের অনেকেই নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মী। এ পরিস্থিতির অবসানের জন্য কাশ্মীরের বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতারা সংলাপ আয়োজনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এই বিবৃতি দিল। সরকার এখন কাশ্মীরে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় সব পক্ষকে যুক্ত করতে চায়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং কাশ্মীরের বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সমাধানের লক্ষ্যে এটাও একটা সংলাপ।
কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েছিল নিরাপত্তা বাহিনী। তার আঘাতে নিহত হয় ইরফান আহমেদ নামের এক কিশোর। ভারতশাসিত কাশ্মীরের শ্রীনগরে গতকাল তার স্বজনদের আহাজারি l ছবি: রয়টার্সবিবৃতিতে বলা হয়, সরকার একটা বিষয় স্পষ্ট করতে চায়, সংলাপে কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। কাশ্মীর উপত্যকায় গত ৮ জুলাই থেকে চলমান সহিংস আন্দোলনের জন্য বিচ্ছিন্নতাবাদীদেরই দায়ী করে নয়াদিল্লি। নিরাপত্তা বাহিনী গত ৮ জুলাই সন্ত্রাসী সংগঠন হিজবুল মুজাহিদিনের নেতা বুরহান ওয়ানিকে হত্যা করার পর থেকেই ওই সহিংসতা শুরু হয়।
জম্মুতে গত রোববার এক সমাবেশে ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি ওই সহিংসতার জন্য পাকিস্তান এবং কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ের নীতি স্পষ্ট হতে হবে। পাকিস্তানের পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের তাঁবেদারেরা নতুন দফায় এই লড়াই শুরু করেছে। তাদের পরাজিত করতে জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণ আরেকবার ভারতের সঙ্গে থাকবে।
জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর নেতৃত্বে কাশ্মীরের বিরোধী দলের নেতারা প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে গতকাল
সাক্ষাৎ করেন। তিনি অর্থমন্ত্রীর ওই মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের বিবৃতি জনগণকে আরও বেশি দূরে সরিয়ে দেবে। এমন কঠোর বক্তব্য দিলে জনগণের সমর্থন হারাতে হবে, ভূখণ্ড ধরে রাখলেও। তখন কাউকে দোষারোপ করা যাবে না।
বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন ওমর আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘জম্মু ও কাশ্মীরের সমস্যাগুলোর দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে আমরা একসঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় আছি। এখানে রাজনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে, প্রশাসনিক উদ্যোগ পর্যাপ্ত হবে না।’
ওমর আবদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন কংগ্রেসের নেতা গুলাম আহমেদ। তিনি বলেন, শুধু উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দিয়ে কাশ্মীরের সমস্যার সমাধান হবে না—এ কথা প্রধানমন্ত্রী মোদি মেনে নিয়েছেন।
সহিংস জনতাকে নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী বন্দুকের যে পেলেট ব্যবহার করছে, তা বন্ধ করতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের বিরোধী দলের নেতারা। পেলেটের আঘাতে বেসামরিক লোকজনই বেশি আহত হয়েছে। বহু লোক অন্ধ হয়ে গেছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.