‘মার্কেটে সিনেপ্লেক্স করলে পাওয়া যাবে ঋণ’

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, মেট্রোপলিটন শহর ও শহরের বাইরে মার্কেটের মধ্যে সিনেপ্লেক্স বা সিনেমা হল করলে ঋণ দেওয়া হবে।

আজ সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সিনেমা হল মালিক সমিতি ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাসের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সাত সদস্য।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, দেশের চলচ্চিত্রের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ চলচ্চিত্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে। দেশের চলচ্চিত্রের উন্নয়নে সরকার এরইমধ্যে অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছে।

তার অন্যতম একটি পদক্ষেপ এক হাজার কোটি টাকায় স্বল্পসুদে ঋণ তহবিল। সেটির জন্য পঞ্চাশের অধিক দরখাস্ত পড়েছে। আমরা আশা করছি সেগুলো তারাতারি ছাড় করা হবে। আরও অনেক দরখাস্তকারী উৎসাহী আছেন। তারা যদি দরখাস্ত দেয় তাহলে আমরা ব্যাংকগুলোকে বলে দেবো।

তিনি জানান, আমরা আশা করছি, সেগুলো তাড়াতাড়ি দেওয়া হবে। আরও অনেকে দরখাস্ত করতে চাচ্ছেন। তাদের দিয়ে দরখাস্ত করিয়ে দিলে আমরা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে বলে দেব।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, চট্টগ্রামে এক কোটি লোকের বসাবাস। সেখানে মাত্র দুইটি সিনেপ্লেক্স। সেখানে আরও সিনেপ্লেক্স হওয়া দরকার। এরকম দেশের সব বড় শহরে সিনেপ্লেক্স দরকার। ঢাকাতে যদি ছয়টি চলে তাহলে আরও চলবে। ইতোমধ্যে অনেকেই উদ্যোগী হয়েছে। বগুড়ায় হয়েছে রাজশাহীতে হচ্ছে। আর সিঙ্গেলস্টেম সিনেমা হল সারা বিশ্বে সমস্যার মধ্যে আছে। বোম্বে, কলকাতাতেও সিঙ্গেলস্টেম সিনামা হল বন্ধ হয়ে গেছে। তবে সিনেপ্লেক্স চলছে ও দিন দিন বাড়ছে।

তিনি বলেন, মানুষের রুচির পরিবর্তন হচ্ছে এটাই বড় কারণ। সিনেমা হলে ভালো বসার ব্যবস্থা, এসি, রেস্টুরেন্টসহ অন্যান্য সুবিধা না থাকলে মানুষ এখন যেতে চায় না। সেক্ষেত্রে সিনেপ্লেক্স যেগুলো মার্কেটে হয়েছে সেগুলো ভালো করছে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের যে পুনঃ অর্থায়ানযোগ্য ঋণ তহবিল। সেটা কিন্তু কোনো মার্কেটের মধ্যে সিনেপ্লেক্স করলেও সেখান থেকে ঋণ দেবে। কেউ যদি একটি মার্কেটে সিনেপ্লেক্স বা সিনেমা হল করতে চায় তাহলে তিনি ঋণ পাবেন। এ কথা অনেকেই জানে না। ইতোমধ্যে যারা সিনামা হলের জায়গায় মার্কেট করে ফেলেছেন সে মার্কেটে যদি তারা নতুন করে সিনেপ্লেক্স বা সিনেমা হল করতে চায় তাহলেও তিনি ঋণ পাবেন। মেট্রোপলিটন শহরের ভেতরে পাঁচ শতাংশ সুদে এবং মেট্রোপলিটন শহরের বাইরে সাড়ে চার শতাংশ সুদে এ ঋণ নিতে পারবেন। যেখানে সাধারণ ঋণে সুদ হচ্ছে নয় শতাংশ। সেখানে অর্ধেক সুদে এক বছরের গ্রেস প্রিয়ডসহ ঋণ পাচ্ছেন।

বছরে অন্তত ১০টি হিন্দি চলচ্চিত্র আমদানি করে প্রদর্শন করতে চাচ্ছে হল মালিকদের সমিতি এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, যদি চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি, পরিচালক সমিতি, শিল্পী সমিতি এবং প্রযোজক সমিতি- এ চারটি সমিতি যদি লিখিতভাবে দেয় (আবেদন) আমার কাছে, সবাই এক সঙ্গে যদি লিখিতভাবে দেয় আমাকে, তাহলে আমরা বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ নেবো। কিন্তু সবাইকে লিখিতভাবে দিতে হবে। যদি আপত্তি না থাকে তাহলে আমরা সব রকমের ব্যবস্থা নেবো।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাস বলেন, আমরা মনে করি, দেশের চলচ্চিত্রকে আগের অবস্থায় নিয়ে যেতে সরকার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যে কারণে প্রেক্ষাগৃহের উন্নয়ন ও নতুন চলচ্চিত্র নির্মাণে এক হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এ তহবিল বাস্তবায়নে ব্যাংকারদের অসহযোগিতা ও সিনেমা মালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি কাটাতে আপনি (তথ্যমন্ত্রী) দু-তিনবার আলাদা আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে আমরা দেশে অন্তত ৫০টি সিনেপ্লেক্স উপহার দিতে পারব।

তিনি বলেন, ‘পরান’ ও ‘হাওয়া’ সিনেমা ভালো ব্যবসা করেছে। কিন্তু এরপর আর কোনো সিনেমা নেই। এতে হলগুলোকে দৈনন্দিন খরচ যোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারা অসহায় অবস্থায় আছে। সে ক্ষেত্রে হিন্দি সিনেমা এলে কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে। দেশে বছরে ১০টি হিন্দি সিনেমা আনতে চাচ্ছে প্রদর্শক সমিতি। এ ব্যাপারে সরকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা চাচ্ছি।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.