কাবা শরিফে জুমার নামাজ আদায় করবেন হাজিরা

imagesপবিত্র মসজিদুল হারামে গতকাল মাগরিবের নামাজ আদায় করছেন হািজরা  বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৬০ হাজার হজযাত্রী এরই মধ্যে সৌদি আরবে এসে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে কিছু হজযাত্রী মদিনায় অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ থেকে আসা বেশির ভাগ হজযাত্রী জীবনে প্রথমবারের মতো আজ মক্কায় কাবা শরিফে জুমার নামাজ আদায় করবেন। অনেকে জুমার নামাজ পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কেউ কেউ প্রথম কাতারে ইমামের সঙ্গে নামাজ আদায়ের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

‘ফজরের নামাজের পর আর বাড়ি ফিরব না। একেবারে জুমার নামাজ পড়ে ফিরব।’ গতকাল বৃহস্পতিবার এমনটাই জানালেন ঢাকার কাঁঠালবাগান থেকে আসা আতাউর রহমান।

জুমার নামাজ শুরুর তিন ঘণ্টা আগেই মসজিদুল হারামের চারপাশের সব সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। তাই হাঁটা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। শুক্রবার এখানে ছুটির দিন। গতকাল সন্ধ্যার পরই মক্কা ও এর আশপাশের এলাকা থেকে মসজিদুল হারামের উদ্দেশে রওনা হন মুসল্লিরা। তবে এটা প্রবাসীদের মধ্যেই বেশি। জুমার নামাজ পড়ার পাশাপাশি দেশ থেকে হজ পালন করতে আসা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করবেন তাঁরা।

ঐতিহাসিক স্থানগুলো ঘুরে দেখছেন হজযাত্রীরা: হজযাত্রীরা মসজিদুল হারামে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি ইসলামের ঐতিহাসিক স্থানগুলো পরিদর্শন করছেন।

কাবা শরিফ থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে অবস্থিত জাবালে সাওর। জাবাল মানে পাহাড়, সাওর অর্থ গুহা। মক্কা থেকে মদিনায় যাওয়ার পথে শত্রুর হাত থেকে বাঁচতে হজরত আবু বকর (রা.)-কে নিয়ে সাওর পর্বতের গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তিন দিন তিন রাত তাঁরা এই গুহায় কাটান। শত্রুরা খুঁজতে খুঁজতে চলে গিয়েছিল গুহার খুব কাছে। কিন্তু গুহামুখে মাকড়সার জাল দেখে ফিরে যায়। এ তথ্য আমাদের অনেকেরই ছোটবেলায় জানা। এখানে একটি বড় সাইনবোর্ডে দর্শনার্থীদের পর্বতে উঠতে নিষেধ করা আছে। এতে লেখা, এই পর্বতে আরোহণ করার মধ্যে কোনো অতিরিক্ত সওয়াব নেই। তবে এই উপদেশ দর্শনার্থীদের দমাতে ব্যর্থই হয়েছে বলা যায়। ঢাকার গেন্ডারিয়া থেকে সস্ত্রীক হজে এসেছেন হাসানাত আল মতিন। দুই বোতল পানি নিয়ে তাঁরাও উঠতে শুরু করলেন পাহাড়ে।

মক্কার হারাম এলাকার কাছেই জাবালে নূর বা হেরা পর্বত। নবী করিম (সা.) এই পর্বতে ওঠানামা করেছেন নিয়মিত। জাবালে নূর পাহাড়ে উঠতে সময় লাগে সোয়া ঘণ্টা, আর নামতে লাগে আধা ঘণ্টা। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) যেখানে ধ্যান করতেন এবং পবিত্র কোরআন শরিফের আয়াত যেখানে নাজিল হয়েছে, সেসব জায়গা দেখতে পাওয়া সৌভাগ্যের বিষয়। আরবিতে জাবাল মানে পাহাড়, জাবালে নূর তাই নূরের পাহাড়। পাহাড়ে আনুমানিক ১৫০ মিটার রাস্তা পাকা করা। কিছু গাড়ি সেই পর্যন্ত যায়। এই পাকা রাস্তার পর শুরু হয়েছে পাহাড় কেটে তৈরি সিঁড়ির ধাপ, যেখানে সাইনবোর্ডে লেখা আছে জাবালে নূরের উচ্চতা ৫৬৫ মিটার। পাকা রাস্তা পর্যন্ত রাস্তার পাশে দোকানপাট, বাড়িঘর গড়ে উঠেছে।

সিঁড়ি এঁকেবেঁকে ওপরে উঠে গেছে। কিছু কিছু জায়গায় যেখানে সিঁড়ি বেশ খাড়া, সেখানে রেলিং আছে। এই সিঁড়িপথ নতুন তৈরি করা হয়েছে। কিছু দূর উঠে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বানানো হয়েছে বসার জায়গা। পাবনা সদর থেকে আসা মো. আবু মুসা সালেহ ও তাঁর স্ত্রী পারভীন আকতার জানালেন, এই পথের বাঁকে বাঁকে ফকিরেরা শুয়ে-বসে ভিক্ষা চাইছে। পথে পানি, চা বিক্রি হচ্ছে। চায়ের দোকান ও বিশ্রামকেন্দ্রগুলো মূলত পাকিস্তানিদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত। পথের ধারে অসংখ্য খালি পানির বোতল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে।

পটুয়াখালীর গলাচিপা থেকে আসা মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান ছাঈদী বললেন, ‘পাহাড়ে উঠতে উঠতে মনে হচ্ছিল, যখন কোনো রাস্তাঘাট ছিল না, তখন কেমন করে নবীজি (সা.) দীর্ঘদিন এই পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত গুহায় যাতায়াত করেছেন। খাদিজা (রা.)-ই বা কেমন করে নবীজি (সা.)-এর জন্য এখানে খাবার দিয়ে যেতেন?’

হজযাত্রীরা আরও ঘুরে ঘুরে দেখছেন জান্নাতুল মাআলা কবরস্থান, মসজিদে জিন। জান্নাতুল মাআলা মসজিদুল হারামের পূর্ব দিকে। মক্কার বিখ্যাত কবরস্থান। এখানে কোনো কবর বাঁধানো নয়, কবরে কোনো নামফলকও নেই। কবরস্থানে কর্মরত একজন বললেন, এখানে আছে বিবি খাদিজা (রা.)-এর কবর। হজ করতে এসে কেউ মারা গেলে আগে এখানে কবর দেওয়া হতো। স্থান সংকুলান না হওয়ায় শারায়া কবরস্থানে (হাজিদের কবরস্থান) দাফন করা হয়।

জান্নাতুল মাআলা কবরস্থানের কাছে মসজিদে জিন। সহিহ হাদিস থেকে জানা যায়, জিনেরা এখানে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে একাধিকবার এসেছেন। সুন্দর মসজিদ, এখানে নামাজ আদায় করেন হজযাত্রীরা। মক্কা উম্মুল জুদ এলাকায় কাবার গিলাফ তৈরির কারখানা। সেখানে অনেক বাংলাদেশি চাকরি করেন। এক কর্মী জানালেন, এখানে পবিত্র কাবার গিলাফ তৈরি হয়। এখানে আছে পুরোনো গিলাফ দেখার ব্যবস্থা।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.