৪ ফেব্রুয়ারি সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করবে বিএনপি

সরকারের পদত্যাগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিএনপির চলমান আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি দেশের সকল বিভাগীয় শহরে একযোগে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

আজ বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবৈধ ফ্যাসিস্ট সরকারের পদত্যাগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, বেগম খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দীদের মুক্তি, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোসহ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ১০ দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী সন্ত্রাস ও সরকারের নির্যাতনের প্রতিবাদে, রাজবন্দীদের মুক্তি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য কমানোর দাবিতে এবং সর্বোপরি ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার দেশের সকল বিভাগীয় শহরে একযোগে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।’

গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির দাম দফায় দফায় বাড়ছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রত্যেকটি জিনিসের দাম বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী বলছেন, করোনা আর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দাম বাড়ছে ৷ হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে কানাডা, মালয়েশিয়া, আমেরিকায় বাড়ি না করে এখানে দেওয়া যেত না? এখন কয়লার দাম দিতে পারে না, জাহাজ ফিরে চলে যায়। ব্যাংকে গেলে মানুষকে টাকা দিতে পারেন না। এরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, মানুষের প্রতি এদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। এরা দাম কমাবে না। এদের সড়াতে হবে।’

আজকের দিনে বাকশাল করে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘কেন বাকশাল করা হয়েছিল তা আওয়ামী লীগের নেতাদের জিজ্ঞেস করলে তারা কোনো জবাব দিতে পারে না। তারা সমস্ত রাজনৈতিক দল, পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিল। মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। সংসদে মাত্র ১১ মিনিটের একটা প্রক্রিয়ায় গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল তারা।’

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘১৯ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। কোন রাষ্ট্রপতি? যে রাষ্ট্রপতির কোনো ক্ষমতা নেই সেই রাষ্ট্রপতি? অবৈধ অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের বাইরে তিনি কোনো কাজ করতে পারেন? তিনি কোন আইন পরিবর্তন করতে পারেন? প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনতে হবে। আমরা আমাদের ২৭ দফায় এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।’

বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘কারাগারে নেওয়া শুরু করেছেন। কারাগারে নিলে আন্দোলন বন্ধ হয় না, আরও বেশি হয়। শেখ হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন কেউ বন্ধ করতে পারবে না।’ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এখনো দেশে অলিখিত বাকশাল কায়েম করেছে। আওয়ামী লীগের চরিত্রই এ রকম। অত্যাচার, নির্যাতন, গুম-খুন করে এই বেইমানরা জোর করে আবারও ক্ষমতায় থাকতে চাইছে। বাংলাদেশকে মুক্ত করার দায় আজকে আবারও বিএনপির ওপর।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলেই আওয়ামী লীগ আবারও রাজনীতির সুযোগ পেয়েছিল। সেই আওয়ামী লীগ আজকে গায়ের জোরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে নির্বাচন ব্যবস্থাকেই অনিশ্চিত করে তুলেছে। আওয়ামী লীগ বারবার গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে অন্যদিকে বিএনপি দেশে বারবার পুনরুদ্ধার করেছে।’

সভাপতির বক্তব্যে দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম বলেন, ‘আপনাদের আর সময় নাই। তসবি গোনা শুরু করেন। লড়াই এখন সবখানে চলবে। আরও ৫০ হাজার শহীদ হলেও শেখ হাসিনার অধীনে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হবে না।’

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.