সুন্দরবনে বাড়ছে বিদেশি পর্যটক!

প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুন্দরবন। চারদিকে ঘন সবুজের মাঝে হারিয়ে থাকার নেশায় পর্যটকদের কাছে পছন্দের স্থান এই বন। ভরা মৌসুমে সুন্দরবনের সৌন্দর্য দেখে অভিভূত হচ্ছেন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা। বছরজুড়ে সুন্দরবনে আসা-যাওয়া থাকলেও এই মুহূর্তে পর্যটকদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

সুন্দরবন বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, সুন্দরবনের অভ্যন্তরে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে এখন পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। আগত পর্যটকদের মধ্যে বড় একটি অংশ ভিনদেশি। গত দুই বছর করোনা থাকার কারণে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা তলানিতে নেমে এসেছিল। কিন্তু বর্তমানে সে চিত্র পাল্টে গেছে পুরোটাই।

 

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির জানান, সুন্দরবনে দেশি পর্যটকদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে। চলতি মৌসুমে গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২৮ জন বিদেশি নাগরিক সুন্দরবন ভ্রমণ করেছেন। এতে রাজস্ব আদায় হয়েছে সাত লাখ ৪৩ হাজার টাকা। এ ছাড়া চলতি মৌসুমে গত রাসমেলার পুণ্যার্থীসহ ৪০ হাজার ৭৮ জন পর্যটক সুন্দরবনে এসেছেন। এর মধ্যে পুণ্যার্থী সাত ৫২৭ জন। ৪৭৭ জন বিদেশি। দেশি-বিদেশি পর্যটক মিলে রাজস্ব এসেছে মোট ৬২ লাখ ১২ হাজার ৮৬৫ টাকা।

জানা গেছে, ২০১৯ সালে ১৭৬ ও ২০২১ সালে ১১৫ জন বিদেশি পর্যটক সুন্দরবনে এসেছিলেন। তবে করোনা শুরুর বছর ২০২০ সালে একজনও বিদেশি পর্যটক আসেননি।

এদিকে দেশি-বিদেশি পর্যটক বাড়ায় খুশি পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, সম্ভাবনাময় পর্যটন খাতকে জাগিয়ে তুলতে পারলেই অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ অনেক শক্তিশালী হবে। উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে পর্যটন খাতে আমাদের গুরুত্ব বা নজর দিতে হবে। আর বিদেশি পর্যটকদের আরও আকৃষ্ট করতে পারলে এ খাতে রাজস্ব অনেক বাড়বে।

সুন্দরবন ট্যুরস অ্যান্ড ট্র্যাভেলসের স্বত্বাধিকারী গোলাম রহমান জানান, নিরাপদে সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য শীতকালই উপযুক্ত সময়। যে কারণে সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে পর্যটকরা সুন্দরবন আসছেন।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.