চালু হচ্ছে ঢাকা-নারিতা ফ্লাইট, প্রচার চালাতে জাপান যাবেন ৮৪ জন

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আগামী ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে জাপানের নারিতায় সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করতে যাচ্ছে। এটাকে শিডিউল ফ্লাইট বলা হলেও মূলত এটি প্রমোশনাল ফ্লাইট। সেই ফ্লাইটে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় খরচে প্রচারণা চালাতে ৮৪ জনের বিশাল বহর নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বহরে মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, গণমাধ্যমকর্মী ও ট্রাভেল এজেন্সির প্রতিনিধিরা রয়েছেন। ৫ দিনের এই সফরে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা খরচ হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্রে জানা গেছে, বিমান কর্তৃপক্ষ ২১ আগস্ট যাত্রীদের এই তালিকা বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। তালিকা থেকে জানা গেছে, বেসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীর নেতৃত্বে বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব খরচে ৮৪ জনকে নিয়ে জাপান ভ্রমণের পরিকল্পনা বিমানের মোট ২৫ জন কর্মকর্তা সফরে যাচ্ছেন। বিমানের এমডি এবং সিইও শফিউল আজিম এবং মুখপাত্র তাহেরা খন্দকারসহ ২৪ সদস্যের প্রতিনিধি দলে বিপণন, বাণিজ্যিক এবং অন্যান্য বিভাগের পরিচালক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা রয়েছেন। সাংবাদিক প্রতিনিধি দলে থাকবেন ২১ জন এবং ট্রাভেল এজেন্সির ১০ জন প্রতিনিধি থাকবেন।

গত ২ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আবদুল আউয়াল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বলা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে সরকারের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং আওতাধীন অধিদফতর, পরিদফতর, দফতর, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, পাবলিক সেক্টর, করপোরেশন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সব ধরনের বিদেশ ভ্রমণ পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

এমন আদেশ বলবৎ থাকার পরও কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর এবং ৮৪ জনের বিশাল বহরের ৫ দিনের সফরে বিমানের নিজস্ব তহবিল থেকে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা খরচের বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে গত বছর কানাডার টরন্টোতে পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনায় ৪ কোটি টাকা ব্যয় নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়ে বিমান।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলছে, বিমান জনগণের টাকা অপচয় করছে, এটাই প্রথম ঘটনা নয়, এর আগেও তারা করেছে। এত বড় প্রতিনিধি দলের সফর নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে টিআইবি।

১৯৭৯ সালে টোকিও ফ্লাইট চালু করেছিল বিমান। ১৯৮১ সালে সাময়িক বিরতির পর ঢাকা-নারিতা রুটে ফ্লাইট চালাতে শুরু করে বিমান। পরে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক না হওয়ায় ২০০৬ সালে জাপানের সঙ্গে বিমানের সরাসরি এ ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায়। ১৭ বছর পর ১ সেপ্টেম্বর আবার চালু হতে যাচ্ছে এই রুট।

সাধারণত কোনো রুটে ফ্লাইট চালু করার আগে এর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। তবে এই রুট চালুর আগে কোনো সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি বলে জানা গেছে।

ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দেওয়ার সময় সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিমানের এমডি গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, রাস্তায় না নামলে হাঁটতে শেখা যায় না। এ নিয়ে স্টাডি করছে বিমান। সেই বিশ্লেষণ ইতিবাচক হলেই ধাপে ধাপে এগোবে বিমান।

বিমান জানায়, গত ২৫ জুলাই থেকে এই রুটের টিকেট বিক্রি শুরু হয়েছে। ঢাকার পাশাপাশি কাঠমান্ডু, দিল্লি ও কলকাতার যাত্রীগণও বিশেষ মূল্যের টিকেট ক্রয় করতে পারছেন। ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ৫ শতাংশ ডিসকাউন্ট মূল্যে টিকেট বিক্রি করা হয়েছে। অফার ছাড়া ঢাকা থেকে এ রুটের একমুখী সর্বনিম্ন ভাড়া ৭০ হাজার ৮২৮ টাকা থেকে শুরু এবং রিটার্ন টিকেটের মূল্য শুরু জনপ্রতি ১ লাখ ১১ হাজার ৬৫৬ টাকা থেকে। ঢাকা থেকে সপ্তাহে প্রতি শুক্র, সোম ও বুধবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে বিমানের ফ্লাইট নারিতার উদ্দেশে যাত্রা করবে এবং নারিতা থেকে সপ্তাহে প্রতি শনি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবে।

আগামী ১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার, বিমানের ফ্লাইট বিজি৩৭৬ স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে জাপানের নারিতা পৌঁছাবে স্থানীয় সময় শনিবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে। নারিতা থেকে প্রথম ফ্লাইট বিজি৩৭৭ নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আগামী ২ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ১১টায় উড্ডয়ন করে ঢাকায় পৌঁছবে শনিবার স্থানীয় সময় বেলা ৩টায়। অত্যাধুনিক মডেলের বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের মাধ্যমে নারিতা ফ্লাইট পরিচালিত হবে।

এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিদেশ ভ্রমণে বিধি-নিষেধসহ খরচ কমানো এবং মিতব্যয়িতা প্রয়োগের জন্য সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তারপরও জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা বিমান এই বিশাল ব্যয়বহুল আনন্দ ভ্রমণে যাচ্ছে, যা খুবই চিন্তার বিষয়।

এই ব্যয়বহুল ভ্রমণ বাতিলের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে জবাবদিহি করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার সময়ের আলোকে জানান, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে নারিতা রুটে ফ্লাইট চালু হচ্ছে। এটা পরীক্ষামূলক নয়, শিডিউল ফ্লাইট। ৭৮৭-৮ সিরিজের ড্রিমলাইনার এই রুটে চলবে। এর সিট ২৯৮টি। এখনও টিকেট বিক্রি চলছে। আগামী রোববার বলা যাবে কতজন যাত্রী যাচ্ছেন। বিমানের নিজস্ব খরচে ৮৪ জন যাওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কারা যাবেন এই বিষয়ে মন্ত্রণালয় এবং বিমান সিদ্ধান্ত নেবে। ৮৪ জনই বিমানের নয়। বিমানের যারা যাচ্ছেন তারা যার যার কাজে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বিমানের এমডি ও সিইও শফিউল আজিমের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.