ঈদুল আজহাকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে সিলেটে তিন স্তরের নিরাপত্তা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। ঈদ জামাতকে ঘিরে শাহী ঈদগাহ ও শাহজালাল (র.) মাজার এলাকায় থাকবে এ নিরাপত্তা।
সেই সঙ্গে ঈদ ও পরবর্তী ছুটির দিনগুলোতে তিন ভাগে বিভক্ত করে পুলিশ নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া ঈদের দিন বিনোদন কেন্দ্র, সিনেমা হল এবং ঈদ পরবর্তী ছুটির দিনগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা দেবে পুলিশ। নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পুলিশের ঈদের ছুটি সীমিত করা হয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশ সূত্র জানায়, নাশকতা ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঈদের দিন মহানগরী ও জেলা উপজেলা সদরগুলোতে তিন সহস্রাধিক সদস্য নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে। এরমধ্যে পোশাকধারী পুলিশ ছাড়াও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা (ডিবি) ও বিশেষ শাখা (সিটিএসবি) পুলিশের সমন্বয়ে টিম মাঠে নিরাপত্তায় কাজ করবে। মাঠে থাকবে ৠাবের টইল দলও।
বিশেষ করে ঈদের দিন বড় জামাতগুলো, যেখানে বিশিষ্টজনেরা ঈদের নামাজ আদায় করে থাকেন, সে হিসেবে শাহী ঈদগাহ ও হযরত শাহজালাল (র.) মাজার এলাকায় ঘিরে থাকবে অধিকাংশ ফোর্স। পাশাপাশি অন্য ঈদগাহ ও মসজিদগুলোতেও পুলিশ মোতায়েন রাখা হবে।
ঈদ পরবর্তীতে বাসা-বাড়ি অলিগলিতে থাকবে পুলিশ। ঈদ পরবর্তী দিনে ও রাতে পুলিশের ৩২টি টহল টিম মহানগরী এলাকায় নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে জানিয়েছেন মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারা।
প্রতিটি টিমে একজন উপ-পরিদর্শকের (এসআই) নেতৃত্বে চার-পাঁচজন পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। নারীদের নিরাপত্তার জন্য প্রতি টিমে তিনজন করে নারী পুলিশও কাজ করবে। নগরীর প্রবেশদ্বারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ২০টির অধিক চেকপোস্টও বসানো হয়েছে।
আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এডিসি থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ঈদের ছুটি দেওয়া হয়নি।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. রহমতউল্লাহ বলেন, ঈদ জামাত কেন্দ্রীক শাহী ঈদগাহ ও হযরত শাহজালাল (র.) মাজার এলাকায় দেড় সহস্রাধিক পুলিশের সমন্বয়ে তিন স্তরে নিরাপত্তা বলয় থাকবে। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
তিনি বলেন, ঈদের দিন বিকেলে বিনোদন কেন্দ্র ও সিনেমা হলের সামনে পোষাকে সাদা পোষাকে পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। ঈদ পরবর্তী সময়ে ফাঁকা নগরীতে চুরি ছিনতাই রোধে ২৯টি টহল দল চষে বেড়াবে মহানগর এলাকায়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে থাকবে চেকপোষ্ট।
টহল দলের মধ্যে মহানগরী কোতোয়ালি থানা এলাকায় ৯টি, এয়ারপোর্টে, জালালাবাদ, শাহপরান, দক্ষিণ সুরমা ও মোগলাবাজার থানায় ৪টি করে টহল টিম দায়িত্ব পালন করবে।
সব মিলিয়ে প্রশাসনের কঠোরতায় নগরবাসী শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন এডিসি রহমত উল্লাহ।