জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন সামনে রেখে জঙ্গিবাদ দমনে বাস্তবতার আলোকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
শনিবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে ‘অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশি আমেরিকান’ নামে একটি সংগঠনের সন্ত্রাসবাদবিরোধী মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়।
‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান ঐক্যবদ্ধভাবে’ শিরোনামের কর্মসূচি থেকে জাতিসংঘের ৭১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আগাম সম্ভাষণ জানানো হয়। রোববারই তার নিউইয়র্কে আসার কথা।
‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে রোল মডেল শেখ হাসিনা’ লেখা বিরাট পোস্টার নিয়ে মানববন্ধনে দাঁড়ান প্রবাসীরা।
আয়োজক সংগঠনটির প্রধান ড. প্রদীপ রঞ্জন কর বলেন, “সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে বিশ্বব্যাপী সমম্বিত কর্মসূচি গ্রহণের সুবিধার্থে তিনি বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের গৃহীত নীতি-কৌশল ও সাফল্যের ধারাবিবরণী উপস্থাপন করবেন জেনে আমরা তাকে অগ্রিম অভিনন্দন জানাচ্ছি।”
মানববন্ধন থেকে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে বিশ্বনেতারা মতৈক্যের ভিত্তিতে সমম্বিত কর্মসূচি নিয়ে তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়; আহ্বান জানানো হয় সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গণসচেনতা ও জনমত গড়ে তোলার।
সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোগের প্রস্তাব তুলে বলা হয়, “সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে পারিবারিক বন্ধন জোরালো ও সুশিক্ষা দেওয়া, সঠিক ধর্মীয় অনুশাসন ও সৎ উপার্জন পারে নুতন প্রজন্মকে জঙ্গিবাদমুক্ত রাখতে।
“শুধু বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের নির্মূল সম্ভব নয়। সন্ত্রাসী ও জঙ্গীরা যে আদর্শ লালন করে তা সার্বজনীন নয়।”
অংশগ্রহণকারী নেতাদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক খোরশেদ আনোয়ার বাবলু, কবি ও লেখক বেলাল বেগ, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান, বাংলাদেশ ল’ সোসাইটির সভাপতি মোর্শেদা জামান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশা, আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল আলম, সোলায়মান আলী, সঙ্গীত শিল্পী সবিতা দাস ও সিরাজুল ইসলাম।
মানববন্ধনের বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পতাকাসহ সন্ত্রাসবিরোধী স্লোগানের প্ল্যাকার্ড বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদেরও দৃষ্টি কাড়ে। অনেকেই বাংলাদেশের সর্বশেষ অবস্থা জানতে চান।
কর্মসূচি থেকে মহাসচিব বরাবরে একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়।