বিদেশ থেকে ফেরার পর ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এখন আর বাংলাদেশিদের আগমনী কার্ড (অ্যারাইভাল কার্ড) পূরণ করতে হচ্ছে না।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, অন্য দেশের বিমানবন্দর দ্রুত পেরোতে পারলেও নিজ দেশে এসে বাংলাদেশিদের অভিবাসনপ্রক্রিয়া (ইমিগ্রেশন) শেষ করার জন্য লম্বা সময় লাগত। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকেরা ভোগান্তিতে পড়তেন। অনেকে আগমনী কার্ড ঠিকভাবে পূরণ করতে পারতেন না। ফলে লম্বা লাইন শেষ করে অভিবাসন কাউন্টারে পৌঁছার পর আবার ফিরে আসতেন এবং লেখাপড়া জানা অন্যদের কাছে ধরনা দিতেন কার্ড পূরণ করে দেওয়ার জন্য। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় এ জন্য হেল্প ডেস্কও বসিয়েছিল।
কিন্তু অভিবাসন পুলিশের এ-সংক্রান্ত সফটওয়্যার আধুনিকায়ন হওয়ার পর আদৌ এই আগমনী কার্ড পূরণের প্রয়োজন আছে কি না, তা নিয়ে কথা ওঠে। একপর্যায়ে গত মাসে পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারিসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর সিদ্ধান্ত হয় যে বাংলাদেশিদের আর আগমন কার্ড পূরণের প্রয়োজন নেই। গত আগস্ট থেকেই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শুরু হয়।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, আগে একসঙ্গে কয়েকটি ফ্লাইট নামলে অভিবাসন কাউন্টারের সামনে লম্বা লাইন তৈরি হতো। এর মধ্যে আগমনী কার্ড লেখা, দেখা ও আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে বাড়তি সময় লাগত। এখন যাত্রীরা দ্রুত বেরিয়ে যেতে পারছেন।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১ সেপ্টেম্বর দেশে এসেছেন বেসরকারি একটি হাসপাতালের চিকিৎসক সিদ্ধার্থ মজুমদার। তিনি বলেন, তার্কিশ এয়ারলাইনসে বসে থাকা অবস্থায় ঘোষণা দেওয়া হয় বাংলাদেশি নাগরিকদের আগমনী কার্ড পূরণের দরকার নেই। পরে অভিবাসনপ্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে দ্রুত।
গতকাল শনিবার হজ করে থেকে ফেরত আসা নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের আবু নাইম বলেন, ‘খুব দ্রুত ইমিগ্রেশন শেষ করে বেরিয়ে গেছি। কোনো সমস্যা হয়নি।’ একই কথা বলেন কুড়িগ্রামের হজযাত্রী নুরুল আমিন সরকার।
হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরের অভিবাসন শাখার সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মুকিত হাসান বলেন, ‘কোনো বাংলাদেশি যখন বিদেশে যাচ্ছেন, তখনই তাঁর তথ্য সংগ্রহ করে রাখছি। ফলে আসার সময় তাঁকে আর ফরম পূরণ করতে হচ্ছে না। এখন গড়ে ২০ সেকেন্ডে একেকজন ইমিগ্রেশন পেরোতে পারছেন।’
আরও খবর