গাজায় শুক্রবারের আগে হচ্ছে না যুদ্ধবিরতি

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ৪ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর বিলম্বিত। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও সেটি বিলম্বিত হবে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা। যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলে জিম্মি করা ইসরায়েলিদেরও মুক্তি দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এই খবর প্রকাশ করেছে।

কাতারের মধ্যস্ততায় গতকাল দীর্ঘ আলোচনার পর ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল ইসরায়েল ও হামাস কর্তৃপক্ষ। যা আজ থেকে তা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। এই খবরে একটু স্বস্তির আশায় বুক বেঁধেছিল অসহায় ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি বন্দিদের পরিবার। তবে বহুল প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকরে বিলম্বিত হওয়ার খবর তাদের এ আশায় যেন পানি ঢেলে দিলো। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাজা শুক্রবারের আগে হামলা বন্ধ করবে না তারা। এদিকে, সশস্ত্রগোষ্ঠী হামাসও সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধবিরতির আগে ইসেরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হবে না।

গতকাল বুধবার ইসরায়েল সরকার ও হামাস যুদ্ধবিরতির চুক্তির বিষয়ে একমত হয়। সে অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার থেকে গাজায় চার দিন ইসরায়েলি হামলা বন্ধ রাখার কথা ছিল। এ চুক্তির আওতায় অন্তত ১৫০ ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেওয়ার কথা ইসরায়েলের। একইসঙ্গে চুক্তিতে গাজায় আরও মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে বলা হয়। এর বিনিময়ে ইসরায়েল থেকে জিম্মি করা অন্তত ৫০ জনকে মুক্তি দেবে হামাস।

তবে হঠাৎ করেই কেন মত পাল্টাল ইসরায়েল তা জানা যায়নি। চুক্তির কিছুক্ষণ পরই ইসরায়েলের ওই কর্মকর্তা জানান, শুক্রবারের আগে গাজায় হামলা বন্ধ করবেন না তারা। এর কিছুক্ষণ আগেই দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জাকি হানেগবি জানিয়েছিলেন, শুক্রবারের আগে হামাসের হাতে জিম্মি হওয়া কাউকে মুক্তি দেওয়া হবে না। তবে এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি। এছাড়া, হানেগবির বক্তব্যের কোনো ব্যাখ্যাও দেননি ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে সিরিজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হামাস। এতে দেশটির ১ হাজার ২০০ জন বেসমারিক নিহত হন। সেদিন ইসরায়েলের ২৪০ জনকে জিম্মিও করে হামাস। হামাসের হামলার প্রতিক্রিয়ায় সেদিনই গাজায় নির্বিচারে বোমা হামরা শুরু করে ইসরায়েল বাহিনী। এর পর থেকে অব্যাহত হামলায় গাজার ১৪ হাজারের বেশি বাসিন্দা নিহত হয়েছেন। তাঁদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.