যুদ্ধবিরতির পঞ্চম দিনে ১২ জিম্মি ও ৩০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ইসরাইল

হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির চুক্তির অংশ হিসেবে পঞ্চম দফায় মুক্তি পেয়েছেন আরও ৩০ ফিলিস্তিনি বন্দি। তাদের মধ্যে রয়েছেন ১৫ জন নারী ও ১৫টি শিশু। এ নিয়ে ১৮০ ফিলিস্তিনি মুক্তি পেয়েছেন।

আজ বুধবার বার্তাসংস্থা আনাদোলু ও আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, হামাসের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তির অধীনে ইসরাইল মঙ্গলবার আরও ৩০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিয়েছে। বন্দিদের মধ্যে ১৫ জন নারী ও ১৫টি শিশু রয়েছে।

আনাদোলুর সংবাদদাতা জানান, মুক্ত পাওয়ার পর রেড ক্রসের একটি বাস তাদের নিয়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লার কাছে বেইটোনিয়া শহরে ইসরাইলের ওফার সামরিক কারাগার ছেড়ে গেছে।

অন্যদিকে হামাস আরও ১২ বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে বলে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এবং ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব রেড ক্রস (আইসিআরসি) জানিয়েছে।

আইসিআরসি বলেছে, ১২ জন বন্দিকে মিশর সীমান্তবর্তী রাফাহ ক্রসিং দিয়ে গাজা থেকে স্থানান্তর করার কাজে সফলভাবে সহায়তা করেছে তারা।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, মুক্তিপ্রাপ্তদের ১০ জন ইসরায়েলি ও দুইজন থাইল্যান্ডের নাগরিক। তারা ইসরায়েলে পৌঁছেছেন।

প্রসঙ্গত, ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সংগঠন হামাস ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের নজিরবিহীন হামলা চালায়। জবাবে ওই দিনই গাজায় পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরাইল। এর মধ্যে জেরুজালেমসহ ফিলিস্তিনের কয়েকটি জায়গায় আশ্রয়শিবিরে অভিযান চালায় ইসরায়েলি সেনারা।

পরে কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় হামাস-ইসরাইল সংঘাত শুরুর ৪৮ দিন পর গত শুক্রবার থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির এ চার দিনে হামাস ৫০ জন ইসরাইলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে; বিনিময়ে ইসরায়েল তাদের কারাগারে বন্দি ১৫০ ফিলিস্তিনিকে ছেড়ে দেবে এবং গাজায় ত্রাণবাহী ২শ ট্রাকের পাশাপাশি ১ লাখ ৪০ হাজার লিটার জ্বালানি ও গ্যাসভর্তি অন্তত চারটি লরি প্রবেশের অনুমোদন দেবে।

সোমবার ছিল চার দিনের এ যুদ্ধবিরতির শেষ দিন। এদিন হামাস ও ইসরাইল সরকারের সম্মতিতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও দুদিন বাড়ানো হয়েছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.