পাসপোর্ট-ভিসা ও টিকিট ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে হাজির রাশিয়ার নাগরিক!

রাশিয়ান এক নাগরিক পাসপোর্ট-ভিসা ও টিকিট ছাড়াই পাড়ি জমিয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছানোর পর ধরাও পড়ছেন তিনি। আদালতের নথি অনুসারে, রাশিয়ান-ইসরায়েলের দ্বৈত নাগরিক সের্গেই ভ্লাদিমিরোভিচ ওচিগাভা স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কোপেনহেগেন ত্যাগ করেন এবং ৪ নভেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই ইউরোপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী একটি উড়োজাহাজে চড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসায় অবাক হয়েছেন অনেকেই। মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির কোনো পাসপোর্ট বা ভিসা কর্মকর্তারা খুঁজে পাননি। তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের  বিষয়ে মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। প্রাথমিকভাবে সিবিপিকে বলেছিলেন যে, তিনি তার পাসপোর্ট বিমানে রেখে গেছেন।

গণমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় বর্তমানে তদন্ত চলছে। আদালতের নথি থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, রাশিয়ান ওই নাগরিকের নাম সের্গেই ভ্লাদিমিরোভিচ ওচিগাভা। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি কোপেনহেগেন থেকে রওনা হন। পরে গত ৪ নভেম্বর কোনো পরিচয়পত্র বা বোর্ডিং পাস ছাড়াই লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

ফ্লাইট ক্রুদের দেয়া তথ্যমতে, ফ্লাইটের সময় ওচিগাভাকে চারপাশে ঘুরে বেড়াতে, এমনকি আসন পরিবর্তন করে বসতে দেখা গেছে। পরে খাবার সরবরাহের সময় কেবিন ক্রুদের কাছ থেকে প্রতিবার দুটি খাবারের অনুরোধও করেন তিনি। একপর্যায়ে কেবিন ক্রুদের সদস্যদের চকলেট খাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ক্রু সদস্যরা বলেন, তারা ওই ব্যক্তির বোর্ডিং পাসটি দেখেননি। তবে নোট করেছেন যে বোর্ডিংয়ের সময় তিনি প্রাথমিকভাবে যে আসনটি নিয়েছিলেন সেটি একটি খালি আসন ছিল।

প্রতিবেদন অনুসারে, বিমানটির কেবিন ক্রুরা নিজ নিজ বিভাগের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যাত্রীর সংখ্যা গণনা করেছেন। কিন্তু কেউই বাড়তি যাত্রী হিসেবে ওচিগাভারকে ধরতে পারেননি। কেবিন ক্রুর এক সদস্য বলেছেন, দেখে মনে হচ্ছিল ওচিগাভা ফ্লাইটের অন্যান্য যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু বেশিরভাগ যাত্রী তাকে উপেক্ষা করছিলেন। রহস্যজনক পুরো বিষয়টি নিয়েই এখন মাঠে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।

ওচিগাভার কাছে পাসপোর্ট না থাকলেও ছিল রাশিয়ান ও ইসরায়েলি পরিচয়পত্র। তার ফোনে পাসপোর্টের একটি আংশিক ছবিও ছিল, যেখানে তার নাম, জন্মতারিখ এবং পাসপোর্ট নম্বর দেখা গেছে। তবে এসব ছবিতে পাসপোর্টধারীর ছবি দেখা যায়নি।

এফবিআই এজেন্ট ক্যারোলিন ওয়ালিংয়ের দায়ের করা অভিযোগের জবাবে ওচিগাভা নিজেকে অর্থনীতি এবং বিপণনে পিএইচডি করা হিসেবে দাবি করেছেন। তিনি জানান, আগে রাশিয়ায় একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবেও কাজ করেছেন। ওচিগাভা দাবি করেছেন, তিন দিন ঘুমাননি এবং কী ঘটছে, তা বুঝতে পারেননি। আর ভ্রমণের সময় বিমানের টিকিট সঙ্গে ছিল বলেও অনুমান করছেন ওচিগাভা। তবে এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তিনি কীভাবে কোপেনহেগেন থেকে বিমানে উঠেছিলেন, সে বিষয়েও কোনো কিছু মনে নেই তার।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.