লাইসেন্স বাঁচিয়ে রাখতে হলে সিটিসেলকে এক মাসের কম সময়ের মধ্যে ৩১৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। একই সঙ্গে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের বকেয়া অর্থের বাকি ১৫৯ কোটি ২১ লাখ টাকা পরের এক মাসের মধ্যে দিতে হবে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রকাশিত এক আদেশ বলা হয়েছে লাইসেন্স টিকিয়ে রাখতে দেশের সবচেয়ে পুরনো অপারেটরকে ১৯ অক্টোবরের মধ্যে বিটিআরসির বকেয়া ৪৭৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকার প্রথম অংশ পরিশোধ করতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের এ নির্দেশনা হাতে পাওয়ার পর কমিশন সঙ্গে সঙ্গে তা সিটিসেলকে পাঠিয়ে দিয়েছে। এর আগে ২৯ আগস্ট সর্বোচ্চ আদালত দুই মাসে দুই কিস্তিতে পাওনা টাকা পরিশোধ করলে সিটিসেল কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে বলে রায় দেয়। বুধবারের নির্র্দেশনায় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ কুমার সিনহাসহ আরও চার বিচারপতির নাম উল্লেখ রয়েছে। অপারেটরটির কাছে বিভিন্ন খাতে বিপুল পাওনা থাকায় ১ জুলাই বিটিআরসি প্রথমে ১৬ আগস্টের মধ্যে সিটিসেলের গ্রাহকদেরকে অপারেটর বদল করার অনুরোধ জানায়।
পরে সরকার আরও সাত দিন সময় বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে কেন লাইসেন্স বাতিল করা হবে না তা জানতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। এর মধ্যে সিটিসেল উচ্চ আদালতে গেলে দুই দিনের শুনানির পর দুই কিস্তিতে টাকা পরিশোধের নির্দেশনা দেন বিচারকরা। সূত্র জানায়, বিটিআরসির বাইরেও অপারেটরটির সবচেয়ে বড় দেনা রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংকে। এর পরিমান তিন হাজার কোটি টাকার বেশি।
১৯৮৯ সালে দেশের প্রথম মোবাইল অপারেটরের লাইসেন্স পেয়ে সিটিসেল ১৯৯৩ সাল থেকে সেবা দিতে শুরু করে। বর্তমানে এ অপারেটরের ৪৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ শেয়ারের মালিক সিঙ্গাপুরের টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা কোম্পানি সিংটেল। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোর্শেদ খানের প্যাসিফিক মোটর্সের রয়েছে ৩৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ার। এ ছাড়া ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে ফার ইস্ট টেলিকমের হাতে। সেটিও আসলে মোর্শেদ খানেরই আরেকটি কোম্পানি।
দেশের পুরনো অপারেটরটি ২০১৪-১৫ সালে ১৩৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা আয় করে। এর আগের বছর এর পরিমান ছিল ২৩০ কোটি ৫২ লাখ টাকা। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের বার্ষিক বিবরণী থেকে পাওয়া তথ্যে ২০১২-১৩ সালে সিটিসেলের আয় ছিল ২৬৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, যা এর আগের বছরে ছিল ৩৪৭ কোটি দুই লাখ টাকা। আয় কমার এই ধারাবাহিকতা পাওয়া গেছে গ্রাহক কমার ক্ষেত্রেও। ২০১১ সালে অপারেটরটির গ্রাহক সর্বোচ্চ পর্যায়ে ছিল ১৯ লাখ। তারপর সেটি প্রতি বছরই কমছে। এখনতো বিদ্যুৎ বিল দিতে না পারায় অনেক জায়গায় নেটওয়ার্ক বন্ধ হচ্ছে।
অন্যদিকে গত কয়েক বছর থেকে স্থানীয় শেয়ারহোল্ডাররা সিটিসেলে নতুন কোনো বিনিয়োগ করছেন না। তারা বরং নানাভাবে চেষ্টা করছিলেন অপারেটরটির জন্য নতুন বিনিয়োগকারী জোগারের। কয়েকবার ভিয়েতনাম, চীন বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি কোম্পানির নাম শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত কাউকেই আনতে পারেনি তারা। তবে এখনও চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সূত্র।