সুন্দরবনের আগুন কয়েকদিন পর্যবেক্ষণে থাকবে: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

সুন্দরবনের আগুন পুরোপুরি নিভে গেছে বলে দাবি করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন।

 

তিনি বলেন, ‘সুন্দরবনের আগুন কয়েকদিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।’ মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান মাহবুব হোসেন। সাংবাদিকদের মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সুন্দরবনে যে আগুন লেগেছিল, সেই আগুনের সর্বশেষ অবস্থা জানতে চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এ বিষয়ে অবহিত করেছেন।

 

তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ পরিস্থিতি যেটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, সেটা হচ্ছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আছে। আগুন শতভাগ নিভে গেছে, এমন কিছু না—নিয়ন্ত্রণে আছে। আগুন কন্ট্রোল করা গেছে। আগামী কয়েকদিন এটা পর্যবেক্ষণে থাকবে। তারা এটি দেখবেন।’

 

সচিব বলেন, ‘বনের আগুন কিন্তু স্বাভাবিকভাবে নেভে না। আপতদৃষ্টিতে মনে হবে, নিভে গেছে। কিন্তু কোনো একটি লতা বা অন্য কিছু দিয়ে আগুনটা অনেক দূর চলে যাবে। নতুন করে আগুন জেগে ওঠে। বনের আগুন নেভানোর ক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে ঘোষণা করা যায় না। এখন সুন্দরবনের আগুন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে কয়েকদিন। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে অবহিত হয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আপনারা জানেন, ফায়ার সার্ভিসের পুরো টিম ওখানে গেছে, কাজ করছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণ কাজ করছে।’

 

মাহবুব হোসেন বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের ৫৫ সদস্য এবং দেড় শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছেন। দেড় থেকে দুই কিলোমিটার দূরে ছিল পানির উৎস। সেখান থেকে পাওয়ার পাম্পের মাধ্যমে পানি এনে ব্যবহার করা হয়েছে। তারা অনেক পরিশ্রম করেছেন। গভীর জঙ্গল হওয়ায় রাতে কাজ করা যায় না। দিনে দিনে কাজ করতে হয়েছে। ওখানে অনেক ঝুঁকি ছিল। সবমিলিয়ে তারা খুব চ্যালেঞ্জিং কাজ করেছেন, তারা ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।’

 

মন্ত্রিসভা বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত চুক্তির খসড়া অনুমোদন দিয়েছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরের লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত চুক্তির খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে। এর উদ্যোক্তা ছিল বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। এ চুক্তির আওতায় উজবেকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি বিমান চলাচল কার্যক্রম শুরু হবে।’

 

সচিব জানান, ৯৩ সালে একটা চুক্তির মাধ্যমে এর জার্নিটা শুরু হয়েছিল। ২০০৫ সালে এসে এটি বন্ধ হয়ে যায়। এখন নতুনভাবে শুরু করার জন্য উজবেকিস্তানের পক্ষ থেকে আগ্রহ প্রকাশ করার পরিপ্রেক্ষিতে দুই পক্ষ মিলে খসড়াটির চুক্তি হয়।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.