পাসপোর্ট ও নগদ টাকা সংগ্রহে দালালেরা, বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা

malaysia1454915133বাংলাদেশের বন্ধ শ্রমবাজার মালয়েশিয়া সরকার খুলে দিয়েছে। এখন অনলাইন ডিজিটালাইজেশনের কার্যক্রম চলছে। তাই একটু সময় লেগে যাচ্ছে। আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যে দেশটি বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আসতে শুরু করবে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার। তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সম্ভাবনাময় এই মার্কেটটি যাতে চালু হতে না পারে সেজন্য একটি কুচক্রী মহল নানাভাবে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।

এ দিকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার ব্যাপারে গতকাল পর্যন্ত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেয়া হলেও সারা দেশে ঘাপটি মেরে থাকা দালাল সিন্ডিকেটের সদস্যরা অনেক আগে থেকেই তৎপর হয়ে উঠেছে। তারা ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার শ্রমিকের কাছ থেকে পাসপোর্ট ও নগদ টাকা সংগ্রহ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় পরে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আবারো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন এ সেক্টরের অভিবাসন বিশেষজ্ঞেরা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার শহীদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, আমাদের বন্ধ থাকা শ্রমবাজার খুলে গেছে। বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আসার বাধা দূর হয়ে গেছে। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে হাইকমিশনে দেয়া গত মাসের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশসহ সোর্স কান্ট্রি দেশগুলো থেকে বিদেশী শ্রমিক নিয়োগে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল দেশটির সরকার সেটি তুলে নিয়েছে।

‘জি টু জি প্লাস’ পদ্ধতিতে এবার শ্রমিক আসবে জানিয়ে তিনি বলেন, পুরো সিস্টেমটি এবার অনলাইন পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে। প্রসেসিংয়ে সময় লাগছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা চেয়েছিলাম ১ অক্টোবর থেকেই শ্রমিক আসুক। তবে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শ্রমিক আসতে শুরু করবে। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমাদের মার্কেটটি চালু হোক এটা স্বার্থান্বেষী একটি মহল চাচ্ছে না। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সর্তক থাকার কথা জানান তিনি।

এ দিকে দীর্ঘ দিন থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু হওয়ার কথা শোনা গেলেও বায়রার একটি গ্রুপ সেটিতে বাধ সাধে। যার কারণে আজ পর্যন্ত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার শুরু করা সম্ভব হয়নি বলে মনে করছেন বায়রার নীতিনির্ধারকসহ সংশ্লিষ্টরা। তবে শ্রমবাজার খুলবে এই সুযোগে সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা দালালেরা মোবাইল ম্যাসেজের মাধ্যমে পাসপোর্ট ও নগদ টাকা সংগ্রহে মাঠে নেমে পড়েছে। রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের ধারণা, মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা বলে ইতোমধ্যে বাজার থেকে লক্ষাধিক পাসপোর্ট ও ২০-৫০ হাজার টাকা করে অগ্রিম কালেকশন করে ফেলছে দালালেরা। অতীতে এসব কেলেঙ্কারির কারণে মালয়েশিয়া সরকার ভিসা দেয়া শুরু করতে না করতেই আবার নানা অভিযোগে তারা শ্রমবাজার বন্ধ করে দেয়। তাই দালালদের এসব কেলেঙ্কারি এখন থেকেই মনিটরিং না করতে পারলে আবার সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারটি যেকোনো সময় বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

গতকাল মালয়েশিয়ায় অবস্থান করা একাধিক অভিবাসন বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আসলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এবার কোন পদ্ধতিতে খুলছে, কিভাবে শ্রমিক যাবে, অভিবাসন ব্যয় কত হবে সেটি এখন দেখার বিষয়। তাই এখনই আমরা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছি না। তারা বলেন, খুশির খবর হলো মালয়েশিয়া সরকার আবার বাংলাদেশী শ্রমিক নেয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। এটা আমাদের সবাইকে কাজে লাগাতে হবে। একই সাথে সবাই যাতে ব্যবসাটা করতে পারেন সেটিও গুরুত্বসহকারে মন্ত্রণালয়কে নিশ্চিত করতে হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের টাস্কফোর্স যদি এখন থেকেই অনিয়মে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাহলে এক বছরের মধ্যে দেশটিতে দুই লাখের মতো শ্রমিক চলে যেতে পারবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি জি টু জি প্লাস (সরকারি ও বেসরকারিভাবে) পদ্ধতিতে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। কিন্তু একদিন না যেতেই মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয় এই মুহূর্তে তারা বিদেশী আর কোনো শ্রমিক নেবে না। এরপরই শ্রমিক পাঠানোর সব কার্যক্রম স্থগিত হয়ে পড়ে। সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, মালয়েশিয়ায় ব্যবসা সবাই করতে পারবে। এর জন্য ৭৪৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা পাঠানো হয়েছে মালয়েশিয়ায়। তারা যাকে ইচ্ছে তাকে কাজ দেবে তাতে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো সমস্যা নেই।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.