রাজশাহীতে ভারতীয় ভিসা পেতে ভোগান্তি

1254785621744125874501রাজশাহীতে ভারতের ভিসা পেতে অবর্ণনীয় ভোগান্তির কবলে পড়ছেন ভিসা প্রত্যাশীরা। সিরিয়াল পেতে আগের দিন সন্ধ্যায় লাইনে দাঁড়িয়েও ভিসা কেন্দ্রে ঢুকতে পারছেন না ভুক্তভোগীরা। দু’দিন তিন দিন চেষ্টা করে ভিসা কেন্দ্রের নাগাল পাচ্ছেন অনেকেই। একইভাবে ঢাকার মতো রাজশাহীতেও সিরিয়াল কেনাবেচা হচ্ছে। রাজশাহীর ভারতীয় হাইকমিশনের উদাসীনতা আর অবহেলার পাশাপাশি ভিসা ইস্যুতে নানাবিধ জটিলতা সৃষ্টিরও অভিযোগ উঠেছে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, এক সপ্তাহ চেষ্টা করেও অনেকেই সিরিয়াল পাচ্ছেন না, আবার টাকা দিলে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই মিলছে ভিসা। কর্মকর্তারা দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভিসা বাণিজ্য চালাচ্ছেন- এমন অভিযোগ অনেক ভুক্তভোগীর কাছ থেকেই পাওয়া গেছে।
রোববার রাত সাড়ে ১০টায় গিয়ে দেখা যায়, নগরীর বর্ণালী মোড়ের স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ভবনের সামনের পুরো চত্বরে খোলা আকাশের নিচে মেঝেতে বসে আসেন শ’তিনেক মানুষ। তাদের মধ্যে বেশ ক’জন নারীও আছেন। কারণ জানতে চাইলে জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার বাসিন্দা মনিউল সরকার জানালেন পরের দিনের জন্য তারা সন্ধ্যা থেকেই লাইনে আছেন। গত তিন দিন সকালে গিয়ে লাইনে ঢুকতে পারেননি। ফলে ভিসা কেন্দ্রে আবেদনও জমা দিতে পারেননি। তাই পরের দিনের জন্য সন্ধ্যাতেই এসে বসেছেন। পরের দিন সকাল ১০টায় ভিসা কেন্দ্র খোলা হবে। একই কথা জানালেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শাহবাজপুর থেকে আসা ইদ্রিশ আলী। কোনোভাবেই ভিসা পাচ্ছেন না। দালালরা সাড়ে তিন হাজার টাকা করে দাবি করেছে। সোমবারের দিন ভিসা কেন্দ্রে ঢুকবেন বলে রোববার রাতেই লাইনে বসেছেন।
এই কেন্দ্রে রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলা ছাড়াও রংপুর বিভাগ ও খুলনা বিভাগের ৬ জেলার মানুষের জন্য ভিসা ইস্যু করা হয়। সারাদিনে ১০০ থেকে ১৫০টি ভিসা ইস্যু করা হয়। কিন্তু প্রতিদিনই ভিসার জন্য পাঁচ শতাধিক মানুষ লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। ভুক্তভোগীরা আরও জানান, ই-টোকেন পেতে ১০ থেকে ১৫ দিন চলে যাচ্ছে। আবার দালালদের ২ হাজার টাকা দিলে দুই দিনেই ই-টোকেন মিলছে।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা গেছে, রাজশাহীতে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ করেছেন তারা। একজন ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করে বলেন, দীর্ঘ সময় লাইন ধরে সিরিয়াল নিয়ে ভিসা কেন্দ্রে গিয়েও পাসপোর্ট জমা দিতে পারছেন না তারা। তুচ্ছ বিষয়ে কাগজপত্রে ভুল ধরে ফেরত দেয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে দালালদের মাধ্যমে টাকা দিয়ে ভিসা করে নিতে হচ্ছে।
এই সেন্টার থেকে ভ্রমণ ভিসা ও মেডিকেল ভিসা দেয়া হয়। ভ্রমণ ভিসা সহজে পাওয়া গেলেও মেডিকেল ভিসা পেতে দুর্ভোগের অন্ত নেই।
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থেকে এসেছেন শাহিনূল ইসলাম। রোববার রাত ১০টার সময় তার সঙ্গে কথা হয় ভিসা সেন্টারের সামনে। কয়েকশ’ মানুষ পরের দিনের লাইনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ভিসা কেন্দ্রের এই ভোগান্তি ব্যাপারে কথা বলতে সোমবার সহকারী হাইকমিশনার অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের মোবাইল ফোন ও অফিস নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। হাইকমিশনের ল্যান্ডফোন বাজলেও কেউ রিসিভার তুলেননি।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.