লিবিয়ার উপকূলে ৬ হাজার অভিবাসী উদ্ধার

indexলিবিয়ার উপকূলে ৬ হাজার অভিবাসী উদ্ধারলিবিয়ার উপকূলে ৬ হাজার অভিবাসী উদ্ধার
লিবীয় উপকূল থেকে সোমবার ছয় হাজারেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে ইতালির কোস্টগার্ড। আরোহী এসব অভিবাসী ৩৯টি নৌকায় চড়ে ইউরোপের উদ্দেশে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করছিল। ভূমধ্যসাগরের বিপত্সংকুল পথ পাড়ি দিতে গিয়ে এদের মধ্যে ২২ জনের নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ইতালীয় ও লিবীয় কর্মকর্তারা।
খবর রয়টার্স, স্কাই নিউজ ও ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস।
উদ্ধারকৃত মোট অভিবাসীর সংখ্যা ৬ হাজার ৫৫। এসব অভিবাসীর সঙ্গে আরো নয়জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ইতালীয় কোস্টগার্ড। এছাড়া একজন গর্ভবতী নারী ও এক শিশুকে হেলিকপ্টারে করে ইতালির লাম্পেদুসা দ্বীপের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে রাজধানী ত্রিপোলির পূর্বে গারাবুল্লিতে ১৬০ জন যাত্রীবাহী একটি নৌকা উল্টে গেলে নয় নারী ও দুই শিশুর মৃত্যু ঘটে। এছাড়া দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সাবরাথা থেকে ইউরোপের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর পরই নৌকাডুবিতে মারা যায় আরো দুজন।
ইতালির কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী ও কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠনের ১০টি জাহাজ দিনভর অভিযান চালিয়ে এসব অভিবাসীকে উদ্ধার করে। এর মধ্যে একটি রাবারের নৌকা থেকেই ৭২৫ জনকে উদ্ধার করা হয়। লিবিয়ার উপকূল থেকে ৩০ মাইল দূরে সাগর থেকে উদ্ধার হয়েছে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক অভিবাসী। এছাড়া লিবিয়ার নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের টহল দল তিনটি নৌকা থেকে ৪৫০ জনেরও বেশি অভিবাসীকে উদ্ধার করে।
প্রসঙ্গত, সোমবার ছিল লাম্পেদুসা দুর্ঘটনার তৃতীয় বার্ষিকী। তিন বছর আগে এদিন ইতালির লাম্পেদুসা দ্বীপের কাছাকাছি উপকূলে লিবিয়ার মিসরাতা থেকে রওনা হওয়া অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে গেলে ৩৬৮ জন মারা যায়। অভিবাসী সংকটের ভয়াবহতার বিষয়টি ওই ঘটনার মধ্য দিয়েই প্রথম বিশ্ববাসীর নজরে আসে। ২০১৩ সালের ওই ঘটনা দিয়েই সবাই জানতে পারে, প্রতি বছর বিপত্সংকুল ও অমানবিক যাত্রার মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে ইউরোপে পাড়ি জমাচ্ছে প্রচুরসংখ্যক অভিবাসনপ্রত্যাশী। ২০১৫ সালের দিকে এসে ইউরোপের প্রায় প্রতিটি দেশের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায় এ অভিবাসী সংকট। এ সমস্যাকে চিহ্নিত করা হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবীবাসীর জন্য সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর অন্যতম হিসেবে।
২০১৩ সালের নৌকাডুবির ওই ঘটনার আগ পর্যন্ত অভিবাসী ও মানব পাচারকারীরা ইউরোপের পথে পাড়ি দেয়ার জন্য অনেকটা অগোচরেই ভূমধ্যসাগরের লিবিয়া-ইতালি রুট ব্যবহার করছিল। ঘটনার পর এর পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ইতালির নেতৃত্বে কয়েকটি দেশের কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী বেশকিছু উদ্ধার অভিযান চালায়। এসব অভিযানে যোগ দেয় বেশকিছু মানবাধিকার সংগঠন। যদিও নৌপথে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বিপজ্জনক যাত্রা থামানো যায়নি। ওই সময়ের পর থেকে আরো কয়েকটি নৌকাডুবির ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে কয়েক হাজার মানুষ।
বর্তমানে ইউরোপের রাষ্ট্রীয় নেতাদের সামনে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় হতাশাগুলোর অন্যতম হয়ে দাঁড়িয়েছে অভিবাসী সমস্যা। ২০১৩ সালের ওই দুর্ঘটনার পর ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমা বোনিনো বলেছিলেন, ‘অভিবাসন সমস্যার কোনো অলৌকিক সমাধান নেই। যদি থাকত, তাহলে আমরা অবশ্যই তা চিহ্নিত ও বাস্তবায়ন করে ছাড়তাম।’
ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের (আইওএম) তথ্যমতে, শুধু চলতি বছরই মোট ২ লাখ ৬ হাজার ৪০০-এর কাছাকাছিসংখ্যক অভিবাসী ইতালিতে পৌঁছেছে। এছাড়া ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাত্রাপথে নিহত হয়েছে ৩ হাজার ৫৪ অভিবাসী।
এসব অভিবাসীর অধিকাংশই লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। লিবিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা ঘাটতির কারণে প্রায় বিনা বাধায়ই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে দেশটির মানব পাচারকারীরা। দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ ও জীবিকার তাগিদ দেশটির জনগণকে ঠেলে দিচ্ছে বিপজ্জনক অভিবাসনের দিকে।
এ প্রসঙ্গে বার্তা সংস্থা এএফপিকে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকারী মানবাধিকার সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারসের (এমএসএফ) সমন্বয়ক নিকোলাস পাপাক্রিসোস্টোমোউ বলেন, ‘২০১৬ সালে এসে মানুষের এভাবে অবিশ্বাস্য ও বিপজ্জনকভাবে সাগর পাড়ি দেয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না, এটা মেনে নেয়া কঠিন।’
এর আগে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে মিসরের উদ্ধারকর্মীরা ভূমধ্যসাগর থেকে ১৭০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন। ওই সময় দেশটির বেহেইরা প্রদেশের কাছাকাছি উপকূলে প্রায় ৬০০ অভিবাসী নিয়ে একটি নৌকা উল্টে গেলে তারা নিহত হয়।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.