ফিফার বিরুদ্ধে মামলা করছেন বাংলাদেশী কর্মী

base_1476177748-fifa-workerকাতারে অনুষ্ঠেয় ২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের নির্মাণকাজে নির্মমভাবে শোষণের শিকার হয়েছেন নাদিম শরিফুল আলম। ২১ বছর বয়সী এ তরুণ অতিরিক্ত পরিশ্রম, পর্যাপ্ত খাবার ও বিশ্রামের অভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি এখন চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশনের (ফিফা) বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামার ঘোষণা দিয়েছেন।

ইতিমধ্যে তিন সপ্তাহ সময় দিয়ে ফিফার প্রেসিডেন্ট গিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশে বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে দায় স্বীকার করে ক্ষতিপূরণ দিতে ব্যর্থ হলে মামলা দায়ের করা হবে।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

বার্তা সংস্থাটি জানিয়েছে, সুইজারল্যান্ডের জুরিখের একটি আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এখানে ফিফার সদদপ্তরও। আর্জিতে বলা হয়েছে, ফিফা বিদেশী শ্রমিকদের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করতে কাতারকে বাধ্য করার ক্ষেত্রে নিজের প্রভাব খাটাতে ব্যর্থ হয়েছে।

উপসাগরীয় দেশ কাতার ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য অবকাঠানো নির্মাণের জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে নেয়া কর্মীদের সঙ্গে নিপীড়নমূলক আচরণ করার কারণে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার ও শ্রমিক সংগঠনের সমালোচনার শিকার হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন ‘বিল্ডিং অ্যান্ড উড ওয়ার্কার্স’সহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাদের নিন্দা জানিয়েছে।

কাতারে শ্রমিক শোষণের প্রতিবাদে একটি সংস্থার বিক্ষোভ
কাতারে শ্রমিক শোষণের প্রতিবাদে একটি সংস্থার বিক্ষোভ
তবে সোমবারই প্রথম বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার গভর্নিং বডির বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হলো। আর যদি মামলা হয় তাহলে এটিই হবে ফিফার ইতিহাসে প্রথম মামলা।

শরিফুল আলম ক্ষতিপূরণ হিসেবে ফিফার কাছে ১১ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার দাবি করেছেন। জানা যায়, একজন নিয়োগকর্তাকে ৪ হাজার ডলার দিয়ে কাতারে কাজ করতে আসেন তিনি।

নেদারল্যান্ডসের সবচেয়ে বড় ট্রেড ইউনিয়ন এফএনভি এ মামলা পরিচালনায় তাকে সহায়তা দিচ্ছে।

জুরিখের বাণিজ্য বিষয়ক আদালতে পাঠানো মামলার আর্জিতে বলা হয়েছে, কাতারে পৌঁছনোর পরই নাদিম শরিফুল আলমের পাসপোর্ট নিয়ে নেয়া হয়। পরবর্তী ১৮ মাস তাকে অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। জাহাজ থেকে নির্মাণ সামগ্রী খালাসের কাজ করতেন তিনি।

শরিফুল বলেন, শ্রমিকদের থাকার জন্য বানানো বড় একটি ক্যাম্পে তিনি কার্যত বন্দী ছিলেন, সেখানেই ছিল খাবারের ব্যবস্থা। পরে তাকে চাকরিচ্যুত করে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। তখন তার হাতে নিয়োগকারী সংস্থার ফি মেটানোর মতো অর্থও ছিল না।

তবে এ ব্যাপারে কাতার সরকার বা ফিফার কোনো মন্তব্য জানাতে পারেনি রয়টার্স।

প্রসঙ্গত, তেল গ্যাস সমৃদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ কাতারে এই মুহূর্তে প্রতি কুড়িজন শ্রমিকের মধ্যে মাত্র একজন দেশী। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য ২০ হাজার কোটি ডলারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ করবে তারা, যার মধ্যে কয়েকটি ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণের কথাও রয়েছে। এ কাজে নেপাল, বাংলাদেশ এবং ভারত থেকে কয়েক লাখ শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.