বহরের এয়ারবাস বিক্রি করছে বিমান

2338631042_b247571a09_bফেজ আউট শেষে বহর থেকে বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুটি এয়ারবাস এ-৩১০-৩০০ মডেলের উড়োজাহাজ। উড়োজাহাজ দুটি বিক্রি করতে এরই মধ্যে দ্বিতীয় দফায় আন্তর্জাতিক দরপত্রও আহ্বান করা হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সূত্রে জানা গেছে, উড়োজাহাজ দুটির উড্ডয়ন মেয়াদ শেষ হয় চলতি বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে। এগুলো উড্ডয়ন উপযোগী রাখতে হলে ডি-চেক (বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ) প্রয়োজন, যেখানে ব্যয় হবে কয়েক কোটি টাকা। এ কারণে ডি-চেকের পরিবর্তে ব্যয়বহুল উড়োজাহাজ দুটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এর আগে এয়ারবাস-৩১০ উড়োজাহাজে একের পর এক ত্রুটি দেখা দেয়ায় এগুলো বহরে রাখতে গিয়ে বড় অংকের লোকসান গুনতে হয় সরকারকে। ২০১২ সালে এয়ারবাস-৩১০-এর ডি-চেক করাতে গিয়ে বিমানকে ৩১০ কোটি টাকা অতিরিক্ত গচ্চা দিতে হয়। দুবাই বিমানবন্দরে একটি এয়ারবাসের ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে সেটি আর দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। সেখানেই ওই এয়ারবাসটি স্ক্র্যাপ করে বিক্রি করে দিতে হয়।
এয়ারবাস-৩১০ মডেলের এসব উড়োজাহাজ অনেক পুরনো হওয়ায় এগুলোর পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও অনেক বেশি। এছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের সামান্য ভুলেও পুরনো উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে যাওয়ার শঙ্কা থাকে, যাতে যাত্রীসহ উড়োজাহাজের দুর্ঘটনায় পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস উড়োজাহাজ দুটি বিক্রি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
জানা যায়, এয়ারবাস এ-৩১০-৩০০ উড়োজাহাজ দুটির এয়ারফ্রেম, আসন, অনবোর্ডের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিক্রির জন্য দ্বিতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করা হয় ১০ অক্টোবর। এ সময় আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৩ নভেম্বরের মধ্যে দরপত্র জমা দিতে বলা হয়। একই সঙ্গে উড়োজাহাজ দুটির ইঞ্জিন, এপিইউ ও ল্যান্ডিং গিয়ার বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয় ৯ অক্টোবর। এক্ষেত্রেও আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৩ নভেম্বরের মধ্যে দরপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ায় এয়ারবাস দুটি বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে। বিমানের ফ্লাইট সিডিউলও সেভাবে সাজানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, দুটি এয়ারবাস এ-৩১০-৩০০ উড়োজাহাজ বিক্রি করতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এর আগে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছিল চলতি বছরের ২৪ মে। বিমানের করপোরেট প্ল্যানিং শাখার মহাব্যবস্থাপক আব্দুর রহমান ফারুকী স্বাক্ষরিত ওই দরপত্রে বলা হয়েছিল, এয়ারবাস এ-৩১০-৩০০ উড়োজাহাজ দুটি (নিবন্ধন নং যথাক্রমে এস২-এডিএফ//এমএসএস-৭০০ এবং এস২-এডিকে//এমএসএন-৫৯৪) ইঞ্জিন, প্রপেলার, এপিইউ ও ল্যান্ডিং গিয়ারসহ বিক্রি করা হবে। দুটি উড়োজাহাজই উড্ডয়ন সক্ষম ও ফ্লাইট পরিচালনার উপযোগী। উড়োজাহাজ দুটি আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ নাগাদ হস্তান্তর করবে বিমান, যা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সংগ্রহ করতে হবে।
প্রসঙ্গত, বিমানের বহরে এয়ারবাস-৩১০ উড়োজাহাজ যুক্ত হয় ১৯৯০ সালে। ওই সময় সম্পূর্ণ নতুন অবস্থায় দুটি এয়ারবাস-৩১০ কেনা হয়। এর মধ্যে একটি উড়োজাহাজ দুবাইয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে অচল হয়ে যায়। পরে আরো একটি এয়ারবাস-৩১০ উড়োজাহাজ পাঁচ বছরের চুক্তিতে লিজ নেয়া হয়, পরে যা কিনে নেয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। পরবর্তীতে ওই উড়োজাহাজটিও উড্ডয়ন অনুপযোগী হয়ে প্রায় দুই মাস সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরে পড়ে ছিল। এছাড়া ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে অন্য একটি এয়ারবাস-৩১০ উড়োজাহাজের বডিতে ফাটল ধরে। ওই সময় উড়োজাহাজটিতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছিলেন সংশ্লিষ্টরা। তবে কয়েক বছর ধরে বিমানের ভেতর থেকেই ব্যয়বহুল এসব উড়োজাহাজ বহর থেকে বাদ দেয়ার কথা ওঠে। এরই অংশ হিসেবে প্রথমে ডিসি-১০ বাদ দেয়া হয়। এবার বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে এয়ারবাস-৩১০ মডেলের উড়োজাহাজ দুটি।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.